জাপানের সঙ্গে সই প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্ষমতা বাড়াবে, প্রশ্ন সময় নিয়ে

বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচিছবি: আইএসপিআর সৌজন্যে

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের জন্য জাপানের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুস্তি হস্তান্তর’ বিষয়ক একটি চুক্তি সই হয়েছে। সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশেষায়িত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিটি এমন এক সময়ে সই হলো, যখন বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে ড্রোন নির্মাণের কারখানা স্থাপনের সমঝোতা সামরিক-শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার চীনের সঙ্গে যুক্ততার বিষয়ে ঢাকায় এসে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনের উদ্বেগকে স্পষ্ট করেছে। এর মধ্যেই আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনা থেকে এই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে যে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়; বরং একই কৌশলগত বাস্তবতার অংশ।

তবে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগটিকে সমর্থন করলেও চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই অঞ্চল বিশেষ করে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা একটি জটিল ও স্পর্শকাতর পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। আবার দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, প্রতিরক্ষাবিষয়ক চুক্তি কিংবা সমঝোতা স্মারক ব্যাপক পরিসরে ভবিষ্যতে ভূরাজনীতি ও ভূ–অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে প্রতিটি ধাপে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করে দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সমীচীন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফর সামনে রেখে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। যদিও ওই সফর স্থগিত হয়ে যায়। তবে সফর সামনে রেখে সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি জাপান তুললে বাংলাদেশ আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছিল। তখন জাপান বলেছিল, প্রয়োজন হলে বিশেষ আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যাবে।

চুক্তি নিয়ে আইএসপিআর যা বলেছে

গত মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর–সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি।

পোস্টে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে উভয় পক্ষের নিবিড় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থা, সমন্বিত দৃষ্টি এবং সহযোগিতার প্রতিফলন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দূরদর্শী ও কার্যকর কূটনীতির ফলে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হয়। চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে সম্পাদন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম অধিগ্রহণ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ বিনিময় বৃদ্ধি করবে, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্প্রতি ড্রোন উৎপাদনের জন্য চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তার মানে এমন নয় যে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নজর এড়িয়ে গেছে। এই ধারণা পাওয়া গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে ড্রোন উৎপাদনের কারখানার বিষয়ে ওই এমওইউর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

ধারাবাহিক উদ্যোগের বাস্তবায়ন

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার আলোচনা শুরু হয় ২০২২ সালে। সে বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাপান সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি-সম্পর্কিত আইন শিথিল করেছে। এর পর থেকে জাপানের সমরাস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এশিয়ার কয়েকটি দেশে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি শুরু করেছে।

জাপানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আরও বলেছিলেন, বাংলাদেশে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে আলোচনার জন্য মিৎসুবিশি ইলেকট্রনিকসের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেছে। তারা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছে। মূলত বিমানবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে রাডার ব্যবস্থা বিক্রিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানটি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২২ সালের নভেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টোকিও সফর সামনে রেখে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। যদিও ওই সফর স্থগিত হয়ে যায়। তবে সফরকে সামনে রেখে সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি জাপান তুললে বাংলাদেশ আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছিল। তখন জাপান বলেছিল, প্রয়োজন হলে বিশেষ আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যাবে।

এরপর ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ও জাপান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাবিষয়ক সম্মতিপত্র সই করে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি বিস্তারিত চুক্তি সইয়ের পূর্বশর্ত ছিল ওই সম্মতিপত্র।

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাপানে দ্বিপক্ষীয় সফর করেন। তখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন তিনি। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গটি এসেছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর–সংক্রান্ত চুক্তি সইয়ের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা চুক্তির উপাদান

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাপানের সঙ্গে সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি বিনিময়ের চুক্তি বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াবে। তবে সাতটি ধারাসংবলিত এই চুক্তি সইয়ের বিষয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহযোগিতা ও সমরাস্ত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতা বজায় রেখে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা কৌশলগত অংশীদারত্বের পথে অগ্রসর হলে চীনের কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হলেও হতে পারে।

জাপানের প্রতিরক্ষা নীতি অনুসরণ করে ‘সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়’ চুক্তিতে প্রধান তিনটি উপাদান রয়েছে। এগুলো হচ্ছে:

১. প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর: নৌ টহলযান, নজরদারির ব্যবস্থা, যোগাযোগ সরঞ্জাম বা অপ্রাণঘাতী সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ।

২. সাইবার নিরাপত্তা, উপকূলীয় নজরদারি, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ইত্যাদিতে যৌথ গবেষণা।

৩. সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে। সমরাস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর করা যাবে না এবং ব্যবহারও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জাপানের সঙ্গে চুক্তির ফলে সামুদ্রিক ও সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করবে। এটি প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থার মান বাড়াবে। তবে একই সঙ্গে ঢাকাকে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে এগোতে হবে।

জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাপানের প্রতিরক্ষা চুক্তির উদ্যোগটি ইতিবাচক। এর মাধ্যমে সমরাস্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের সহায়তার বিষয়গুলো আছে। প্রযুক্তির সহায়তা কী হবে, সেটা অবশ্য বিস্তারিত উল্লেখ নেই। সামগ্রিকভাবে এটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ধারাবাহিকতার পথ সুগম করবে এবং এতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে। এই চুক্তিতে যেহেতু বাধ্যবাধকতামূলক কোনো শর্ত নেই, তাই আমাদের জন্য সহায়ক।’

জাপান প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চালিয়ে আসছে। ফলে চীনের কাছে বাংলাদেশ ও জাপানের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমেয় ছিল। এখন দেশটি হয়তো বুঝতে চাইবে সই হওয়া চুক্তির মধ্য দিয়ে কীভাবে এগোবে বাংলাদেশ ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।

১২ দেশের সঙ্গে চুক্তি

জাপান সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়বিষয়ক চুক্তি ইতিমধ্যে আরও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করেছে। প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত কয়েকটি দেশের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাপান প্রথমবারের মতো ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত চুক্তি সই করে। এই তালিকায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২তম দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে মঙ্গোলিয়া। ১২টি দেশের মধ্যে এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো হচ্ছে ভারত, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মঙ্গোলিয়া।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষাবিষয়ক ২০টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চলতি বছরের ১২ আগস্ট মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি এমওইউ সই হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস-বিস) এক সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, তুরস্ক, ভারত, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষাবিষয়ক ১৯টি এমওইউ সই করেছে। ‘প্রতিরক্ষা কূটনীতি’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে এই চুক্তি ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের জন্য সহায়ক, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে কোয়াডের অন্যতম সদস্য জাপানের সঙ্গে এই চুক্তি সইয়ের দীর্ঘ মেয়াদে কৌশলগত উপাদান থাকতে পারে। যেমন সম্প্রতি ড্রোন উৎপাদনের জন্য চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি যুক্তরাষ্ট্র। তার মানে এমন নয় যে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নজর এড়িয়ে গেছে। এই ধারণা পাওয়া গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের মধ্যে ড্রোন উৎপাদনের কারখানার বিষয়ে ওই এমওইউর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে জাপান প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চালিয়ে আসছে। ফলে চীনের কাছে বাংলাদেশ ও জাপানের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমেয় ছিল। এখন দেশটি হয়তো বুঝতে চাইবে সই হওয়া চুক্তির মধ্য দিয়ে কীভবে এগোবে বাংলাদেশ ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা।