মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বাংলাসহ ১৫ ভাষায় কবিতাপাঠ ও আবৃত্তি

বাংলাদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষার জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজ নিজ ভাষার কবিতা ও সেগুলোর বাংলা অনুবাদ পাঠ করেনছবি: প্রথম আলো

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাসহ মোট ১৫টি ভাষায় কবিতাপাঠ ও আবৃত্তির আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এতে বাংলার পাশাপাশি মারমা, মান্দি, সাদ্রীসহ বাংলাদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষার জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজ নিজ ভাষার কবিতা ও সেগুলোর বাংলা অনুবাদ পাঠ করেন।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের একাংশ
ছবি: প্রথম আলো

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির বাঁশির সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর শিল্পী প্রমিলা বিশ্বাস ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি গেয়ে শোনান।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন জাদুঘরের ব্যবস্থাপক (কর্মসূচি) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ২০ বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে, যেখানে বাংলাদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন ভাষার নাগরিকেরা নিজ নিজ ভাষার কবিতা ও বাংলা অনুবাদ পাঠ করেন। পাশাপাশি বাংলায়ও কবিতা আবৃত্তি করেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষায় কবি আবুল হোসেনের লেখা ‘তোমাকে নিয়ে যত খেলা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন ইকবাল খোরশেদ। এরপর মারমা ভাষার কবিতা ‘নৈরীসীহ্ টাইংখুংলাহ্’ কবিতার আবৃত্তি করেন মংহাই নু মারমা, সাদ্রী ভাষায় রচিত ‘২১ ফেব্রুয়ারি’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন সাথী তির্কী, গারো জনগোষ্ঠীর মান্দি ভাষায় রচিত ‘নাংখো খাসারা সালাম ও নিথুগিপা’ পাঠ করেন মতেন্দ্র মানকিন।

রুমিতা সিনহা আবৃত্তি করেন মণিপুরি ভাষার কবিতা ‘লালগৌগী বা্রী’, হাজং ভাষায় ‘আমারৌ নি থামে’ আবৃত্তি করেন টুম্পা হাজং, চাকমা ভাষায় ‘উঃম লুলোঙ’ আবৃত্তি করেন রমিতা চাকমা, খেয়াং ভাষায় ‘উলুং-অং ক্যহ্ আ-সা-ম’ আবৃত্তি করেন অংক্রাথুই খেয়াং, মাহাতো ভাষায় ‘একলে হাটব’ আবৃত্তি করেন পলাশ কুমার মাহাতো, ম্রো ভাষায় ‘আকম আক্রাত ছুং’ আবৃত্তি করেন সং ক্রাত ম্রো।

অনুষ্ঠানে বাংলার বাইরেও আবৃত্তি করা হয় ইংরেজি ভাষায় রচিত কবি রবার্ট ফ্রস্টের ‘স্টপিং বাই উডস অন আ স্নোয়ি ইভিনিং’ পাঠ করেন তামান্না সারোয়ার, ফরাসি ভাষায় রচিত ‘করেসপনডেন্স, লে ফ্ল্যর দ্য মাল’ পাঠ করেন হোসাইন মাহমুদ, চীনা ভাষায় রচিত একটি কবিতা পাঠ করেন অনিকা আক্তার ও কবিতাটির অনুবাদ পাঠ করেন মনোয়ার মাহমুদ, যার বাংলা অর্থ ‘আমি এই ভূমিকে ভালোবাসি’।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ককবরক ভাষার কবিতা ‘খাকসোমা’ আবৃত্তি করেন সাগর ত্রিপুরা, সাঁওতাল ভাষায় রচিত ‘মিত টেন গোগো দন’ আবৃত্তি করেন আদিত্য মার্ডি। এর বাইরে অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষায় রচিত আরও দুটি কবিতা আবৃত্তি করেন মহিউদ্দিন শামীম ও মাহমুদা সিদ্দিকা।