গত শুক্রবার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়ায় রেলক্রসিংয়ে মাইক্রোবাসে চট্টগ্রামমুখী মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় মাহিনসহ সাতজন।একই ঘটনায় নিহত হয় মাহিনের শিক্ষক, সহপাঠী, মাইক্রোবাসের চালকসহ ১১ জন।

হতাহত ব্যক্তিরা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজারের পূর্ব খন্দকিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গাড়িচালক ছাড়া অন্যরা স্থানীয় আরএনজে নামের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে ফেরার পথে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় আহত সাতজনের মধ্যে ছয়জন এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা হলো এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসফির হাসান ও আয়াত হোসেন। দুজনই বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে আহত মাহিন, তানভির হাসান ও মাইক্রোবাসের চালকের সহকারী তৌকির ইবনে শাওন।

শাওনের বাঁ হাত ও পা ভেঙে গেছে। মাথায় আঘাত রয়েছে। তাঁর জ্ঞান পুরোপুরি ফেরেনি। অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে মো. সৈকত। তার হাত ও পা ভেঙে গেছে।

মাহিনের মতো শাওনও নিজের পড়ালেখার খরচ জোগাতে মাইক্রোবাসের সহকারীর কাজ নিয়েছিল।

শাওন গত বছর এসএসসি পাস করে, কিন্তু টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। তাই টাকা রোজগার করে পড়ালেখাটা চালিয়ে নিতে চেয়েছিল শাওন।

আজ মঙ্গলবার চমেক হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে দেখা যায়, শাওন শুয়ে আছে। তার শুশ্রূষা করছেন বড় ভাই মো. তারেক।

তারেক বলেন, এসএসসি পাস করে শাওন কোথাও ভর্তি হয়নি। টাকাপয়সা জমিয়ে আবার পড়ালেখা শুরুর ইচ্ছা ছিল তার। সে জন্য চালকের সহকারীর কাজ নিয়েছিল শাওন। গাড়ি চালানোটা শিখতে চেয়েছিল সে। কিন্তু বড় বিপদ হয়ে গেল। এখন সে কাউকে ভালো করে চিনতে পারছে না। তার জ্ঞান পুরোপুরি ফেরেনি।

হাসপাতালে শাওনের পাশেই শয্যা হয়েছে মাহিনের। তার পাশে আছে মা রোজি আকতার।

দুর্ঘটনার পর থেকে মাহিন অজ্ঞান ছিল, তবে এখন তার জ্ঞান ফিরেছে। কিন্তু সে এখনো ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। তার মাথায় আঘাত আছে। ঘাড়েও আঘাত পেয়েছে সে।

রোজি আকতার বলেন, এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে মাহিন বড়। ছেলে পড়ালেখার পাশাপাশি সবজির দোকানে কাজ করে বাবার বোঝা কমাতে চেষ্টা করছিল। নিজের খরচ, পড়ালেখার খরচ সে নিজেই জোগাত। এখন মা হিসেবে তাঁর একটাই চাওয়া—ছেলেকে দ্রুত সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া।

মাহিনের বন্ধু তানভির। হাসপাতালে মাহিনের পাশাপাশি তার শয্যা। তানভির এখন কিছুটা সুস্থ, তবে মাথায় এখনো ব্যথা রয়েছে। তাঁকে আজ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুল কাদের প্রথম আলোকে বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আইসিইউতে। নিউরো সার্জারির তিন রোগীর অবস্থা আগের চেয়ে ভালো, তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার দরকার হবে। পাশাপাশি ট্রমা কাটানোর জন্য কাউন্সেলিংয়ের দরকার পড়বে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন