আমরা ওখানে লড়াই করতে যাব না: গাজা নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘গাজায় আমরা যে ফোর্স পাঠাব, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এখানে একেবারে আলাপ-আলোচনা চলছে এখন। কারণ, এখনো কোনো কিছুই ঠিক হয় নাই, কারা থাকবে কারা থাকবে না। পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা যাব না।’
আজ বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে রাজনীতিবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে আলোচনায় গাজায় স্থিতিশীলতা আনতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে (আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি কিছু শর্তের ভিত্তিতে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আজ এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘মূল কথা হলো, তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। যেকোনো অবস্থাতেই কিন্তু আমরা এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে যাব না। প্রথমত, আমরা ওখানে লড়াই করতে যাব না। দ্বিতীয়ত, ওখানে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকবে, যাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা বা কথাবার্তা বলাই সম্ভব না, সে ক্ষেত্রে তো আমরা যাব না। কাজে আমাদের শর্তগুলো যেগুলো, সেগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু এরপর আমরা চিন্তাভাবনা করব। কিন্তু আসলে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।’
যেহেতু এখনো বাহিনী তৈরির কাজ শুরু হয়নি, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এ অবস্থায় এটি নিয়ে আলোচনা করা যুক্তিসংগত কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ দিকে চলে আসছে, সরকার কিন্তু থাকছে। মানে কিছু ব্যক্তি চলে যাবে, আরও কিছু ব্যক্তি এসে সেই স্থান নেবেন এবং দেশের এনগেজমেন্ট দেশের স্বার্থ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যায় না। আমরা এমন কিছু করব না বা করছি না, যেটা এই সরকার সরে গেলেই একেবারে পরবর্তী সরকার এসে উল্টেপাল্টে দিতে হবে। কারণ, যে ট্রানজিশন হবে, আমরা খুবই আশাবাদী সেটা একটা স্মুথ ট্রানজিশন হবে। ২০২৪-এর আগস্টে যেটা হয়নি, সেটা তো একটা ভায়োলেন্ট পরিবর্তন ছিল।’
সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব কাজ করছে, সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য গুছিয়ে রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব, অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ডেপ্লয়মেন্টের সিদ্ধান্ত, সেটা পরবর্তী সরকারই নেবে, আমরা মনে করি না যে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ের সমাধান হয়ে যাবে। কারণ, এটা শুধু আমাদের বিষয় না, সব বিশ্বের একটা বড়সংখ্যক দেশের যুক্ততার বিষয়টি রয়েছে।’