স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ: মোস্তাফা জব্বার
বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। উদ্ভাবন ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনোভেশন (উদ্ভাবন) সংরক্ষণের বিকল্প নেই।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে মুঠোফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) ও রবির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। রবির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের গুরুত্ব’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নানা আইনকানুনে বস্তুগত সম্পদের মালিকানাটা নিজের রাখতে পারছি। কিন্তু মেধাস্বত্ব আমরা এখনো নিজের করে রাখার ব্যাপারে যত্নশীল নই। কপিরাইটের ব্যাপারে নিজেদের অনেক অনাগ্রহ লক্ষ করছি। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মেধাসম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের হয়রানি কমাতে এবং আগ্রহ বাড়াতে সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয় নয়, একক আইপি অফিস থাকা উচিত, যেখানে একসঙ্গে কপিরাইট ও পেটেন্ট সনদ নেওয়া যাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বই, নাটক, সিনেমা ছাড়া ১৯৯৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (ডব্লিউআইপিও) কাউকে খুঁজে পাচ্ছিল না মেধাসম্পদের। যাঁরা মনে করছেন, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের ফলে তাঁরা কোনো সুবিধা পাবেন না, তা ঠিক নয়। যেমন রবি এত দিন যে পরিশ্রম করে নিজেদের ভ্যালু দাঁড় করাল, তার কোনো ট্রেডমার্ক থাকবে না, তা তো না। এই ট্রেডমার্কটা তাদের পরিচয় বহন করে।’
মানুষসৃষ্ট মেধাস্বত্ব দেওয়া হলেও আর্টিফিশিয়াল মেধার অনুমোদন নেই বলে উল্লেখ করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, এ জায়গায়ও কাজ করা জরুরি। কপিরাইট আইন এখন সংশোধন করা হচ্ছে। এ সময়েই আর্টিফিশিয়াল বা রোবোটিকস মেধার কপিরাইটটা কী হবে, তা-ও ঠিক করে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাজিব শেঠি বলেন, করোনাকাল থেকে এখন পর্যন্ত ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো হলো সবচেয়ে লাভজনক খাত। তাদের আইপিআর খুব শক্ত। এ সময় প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজিব শেঠি বলেন, ‘কপিরাইট, পেটেন্ট আইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে অন্যরা আমাদের স্বত্ব নিয়ে নিতে না পারে।’
এরপর গোলটেবিল আলোচনায় কপিরাইট নিরীক্ষক সৈয়দা নওরীন জাহান নিশা বলেন, গত পাঁচ বছরে ডিজিটাল কনটেন্ট রেজিস্ট্রেশন চলছে। কিন্তু যখন আর্থিক বিষয়টি আসে, তখনই দ্বন্দ্বের শুরু। বর্তমান কপিরাইট আইন দিয়ে এগুলো কাভার দেওয়া সম্ভব নয়। তাই আগের আইনটি সংশোধন করে ইতিমধ্যে কেবিনেটে পাঠানো হয়েছে।