সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জনকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারে পুলিশের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে ফেলে শিক্ষার্থী শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ১৩ আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর।
আত্মসমর্পণে অন্য আসামিদের মধ্যে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজামান ও সাবেক পরিদর্শক এ এফ এম সায়েদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাভারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, সাভারের তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেহেদী হাসান তুষার, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যানের পিএস মো. রাজু আহম্মেদ, বনগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফরিদ, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি জামান খাঁন ও শরফ আশরাফুল আলম।
এ মামলার ছয় আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আলী, সাবেক নায়েক মো. সুহেল মিয়া, সাবেক কনস্টেবল মো. মাহফুজ মিয়া ও ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান। তাঁদের মঙ্গলবার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন শহীদ হন। ওই সময় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের ওপর থেকে তাঁকে টেনে নিচে ফেলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ইয়ামিন রাজধানীর মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি থাকতেন এমআইএসটির ওসমানী হলে। বাসা সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায়।