মানববন্ধনে অংশ নিয়ে চারুকলা অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিনা ইয়াসমিন বলেন, চারুকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হলেও মূল ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মতো কোনো সুবিধা পান না তাঁরা। আবাসন, শৌচাগার, গ্রন্থাগার–সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। তাঁরা এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান চান। তাঁদের মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন অব্যাহত থাকবে।

নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুলিয়েট রেজিনা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে চারুকলা। এ ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসের অলংকার। চারুকলা ছাড়া ক্যাম্পাস প্রাণহীন। আমরা চাই চারুকলা ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক।’  

চবিতে ১৯৭০ সালে চারুকলা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১০ সালে নগরের সরকারি চারুকলা কলেজের সঙ্গে এক হয়ে গঠিত হয় চারুকলা ইনস্টিটিউট। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে নগরের মেহেদীবাগের বাদশা মিয়া সড়কে ইনস্টিটিউটের অবস্থান। বর্তমানে ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫৩। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ১৭৯ জন, ছাত্র ১৭৪ জন।

গত বুধবার চারুকলার শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে। ওই দিন থেকে ১১ দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন চারুকলার শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে গত শনিবার চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের জন্য উপাচার্য শিরীণ আখতার বরাবর চিঠি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে মূল ক্যাম্পাসে চারুকলা ইনস্টিটিউট ফিরিয়ে আনারা দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন এখনো অব্যাহত আছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরে আনার দাবিতে তাঁরা একমত। যেহেতু চারুকলা আলাদা একটি ইনস্টিটিউট। তাই তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে ইনস্টিটিউট থেকে আগে অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনুষদের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রণব মিত্র চৌধুরীও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সময় দরকার। আপাতত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।