চিঠিদাতারা হলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, নারী নেত্রী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, আইনজীবী জেড আই খান পান্না, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)–এর প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইনজীবী সারা হোসেন, বেসরকারি সংগঠন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এইচ এম নজরুল ইসলাম, সেভ দ্য কক্সবাজার সংগঠনের চেয়ারম্যান আনসার হোসেন, ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা চিঠিটি কুরিয়ারে ফিফার সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন।

বাফুফে কক্সবাজারের রামুর ২০ একর সংরক্ষিত বনে একটি আবাসিক প্রশিক্ষণ একাডেমি করতে যাচ্ছে। এতে ৩৬ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ফিফা। বন কেটে এ ধরনের স্থাপনা তৈরির বিরোধিতা করে আসছেন পরিবেশবাদীরা।

বিশিষ্টজনেরা চিঠিতে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ফিফার এই বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা এ প্রকল্পের বিষয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছি। পরিবেশগত দিক এবং জলবায়ু বিষয়ে আমাদের দেশীয় আইন এবং ফিফার নিজস্ব নীতি ও প্রতিশ্রুতির দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের এই উদ্বেগ।’

চিঠিতে বলা হয়, যে ২০ একর জমিতে এই প্রশিক্ষণ একাডেমি হওয়ার কথা সেটি বন আইন ১৯২৭ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ‘সংরক্ষিত বন।’ এটি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। এ ধরনের এলাকায় মানুষের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই বন জীববৈচিত্র্যের দিক দিয়ে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং অনন্য।

এখানে বিপন্ন প্রজাতির এশিয়ান হাতির আবাসভূমি। জমিটি পেতে বাফুফে সরকারের কাছে আবেদন করে। এরপর সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই ২০ একর জমি বাফুফের কাছে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়েছে। চারটি বিকল্প জায়গা থাকলেও বাফুফে পরিবেশগত দিকে দৃষ্টিপাত না করে এই জায়গা পছন্দ করেছে।
একটি বিকল্প জায়গায় একাডেমি করার জন্য বাফুফেকে বোঝাতে ফিফা সচেষ্ট হবে বলে চিঠিতে আশা করেন বিশিষ্টজনেরা।