সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি: মতিউর রহমান

গণমাধ্যম সম্মিলনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনেছবি: প্রথম আলো

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে মতিউর রহমান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ।

সম্মিলনে পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন, সাংবাদিক ইউনিয়নের এক জায়গায় একত্র হওয়ার বিষয়টিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা বিগত ৫৫ বছর বলেন, ১৫ বছর বলেন, এ সময়ের মধ্যে এটা একটা বড় অগ্রগতি, বড় ভাবনা, বড় চিন্তা।’

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, ‘যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাকতে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

মতিউর রহমান বলেন, ‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের প্রতি সংহতি–সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের ভাবার কোনো কারণ নাই, আগামী সরকার, নির্বাচিত সরকার আসলেই আমাদের সবকিছু আমরা পেয়ে যাব। অতীতেও হয়নি, এখনো হবে না।’

আরও পড়ুন
গণমাধ্যমে সম্মিলনে আগতেরা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে
ছবি: প্রথম আলো

সাংবাদিক শফিক রেহমানের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবনের ৫৫ বছর, শফিক (শফিক রেহমান) ভাইয়ের জীবনের আরও অনেক বেশি বছর কোনো সরকার, কোনো সময় যায়নি যে আমাদের ওপরে কোনো না কোনোভাবে হয় ডিক্লারেশন বন্ধ...১৯৭৫ সালে তো সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেল। একটা প্রথম বড় রকমের স্বৈরতান্ত্রিক পদক্ষেপ ছিল বাংলাদেশের কোনো এক সরকারের বা বিশেষ করে স্বাধীনতার পরের সরকারের পক্ষ থেকে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। তার পরবর্তী সামরিক শাসন, গণতান্ত্রিক শাসন সব আমলেই আমাদের প্রায় একই রকম অভিজ্ঞতা ছোট, বড়, মাঝারি রকমের।’

আরও পড়ুন

অতীতের কাজ নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা করার সুযোগ আছে বলেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেক দেরিতে হলেও এই তর্কগুলো, বিতর্কগুলো অনেক বিলম্ব হলেও এখন হচ্ছে এবং কিছু পরিবর্তনের লক্ষ্য আমরা দেখছি। আমরা কিছু উদ্যোগও নিচ্ছি এবং তার মধ্যে আজকের সমাবেশও তার একটা প্রধান লক্ষ্য।' ঐক্য, সমঝোতা এবং সংহতি এই সময়ে আগামী দিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে উল্লেখ করেন মতিউর রহমান।

আরও পড়ুন