default-image

এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, পলান সরকারের ছেলে হায়দার আলী সরকার, অভিনেতা ও নির্দেশক অনন্ত হীরা, এ কে এম শামসুজ্জোহা পাটোয়ারী প্রমুখ। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, পলান সরকারের মতো মানুষেরা খুব বেশি জন্মান না। শিক্ষার প্রথাগত আলো থেকে দূরে থেকেও সমাজকে আলোকিত করতে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এই মানুষটি বিশেষ অবদান রেখে গেছেন।

হায়দার আলী সরকার বলেন, বাবা বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু পড়াশোনার গুরুত্ব তিনি বুঝেছিলেন। তাই তিনি মানুষকে পড়াশোনায় আগ্রহী করতে চেয়েছিলেন। তিনি হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে বই দিয়ে আসতেন।

default-image

অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজক সংগঠনের পরিচালক জহির রায়হান বলেন, পলান সরকার এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সহায়–সম্বল বিক্রি করে নিজের জীবনটা শিক্ষার জন্য উৎসর্গ করেছেন। ৯০ বছর বয়সেও তিনি প্রতিদিন ১০-১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে মানুষের হাতে বিনা মূল্যে বই পৌঁছে দিয়েছেন।

পলান সরকারের জন্ম ১৯২১ সালে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নূরপুর মালঞ্চী গ্রামে। ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গ্রামের পথে হেঁটে হেঁটে বই বিলি করতেন। তাঁর এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বই পড়ার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তিনি ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০০৭ সালে সরকারিভাবে তাঁর বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন