২ মে সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের অবেদনযন্ত্রের আটটির মধ্যে সাতটি অকেজো। নেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ। ফ্যাকো ও মাইক্রোস্কোপ মেশিনের অভাবে রোগীদের সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালে ৯১ চিকিৎসক পদের বিপরীতে আছেন মাত্র ২৮ চিকিৎসক। ৬৩টি পদই শূন্য।

হাসপাতালের পরিচালক নাহিদ ফেরদৌস স্বীকার করেন, হাসপাতালে অনেক যন্ত্রপাতি অচল থাকায় অনেক রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। রয়েছে চিকিৎসক–সংকটও। এই সংকট কাটাতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলবে না।

জানা গেছে, নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব ভবন বুঝে নেয়নি। ভবন হস্তান্তর নিয়ে ছয় বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি চালাচালি চলছে। দুই বিভাগের কর্মকর্তাদের গড়িমসিতে ভবনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী আবু হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ভবন হস্তান্তরের চেষ্টা করেছি। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করছে না।’ ভবনে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে তিনি বলেন, ভবনগুলো ব্যবহার না করলে দিন দিন সমস্যা বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর এলাকার প্রকল্পের যদি এই হাল হয়, তাহলে অন্য জেলার কী অবস্থা, তা সহজে অনুমেয়। ছয় বছরেও চিকিৎসক নিয়োগ না দেওয়া সরকারের ব্যর্থতা।
সৈয়দ আবদুল হামিদ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের

তৃতীয় পক্ষের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে অনিয়ম

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইউনিকনসাল্ট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদন আইএমইডিতে জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনেও হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অসংগতি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবন নির্মাণের আগেই হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। হাসপাতাল চালুর পর অনেক যন্ত্রপাতি অচল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন ও ডিহিউমিডিফায়ারের একটি ইউনিট, সেন্ট্রাল অক্সিজেন, সিটি স্ক্যান, এমআরআই মেশিন অকেজো হয়ে গেছে।

সাইট ল্যাম্প মাইক্রোস্কোপের এক ইউনিট ও একটি অটো রিফ্রোকোমিটার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অকেজো হয়ে আছে সাইট ল্যাম্প, স্ক্রিন আলট্রাসনোগ্রাম, নন কনটাক্ট বায়োমেট্রি ও অটো লেন্সম্যাটার। রেটিনোস্কোপের একটি ইউনিট কাজ করে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এলাকার প্রকল্পের যদি এই হাল হয়, তাহলে অন্য জেলার কী অবস্থা, তা সহজে অনুমেয়। ছয় বছরেও চিকিৎসক নিয়োগ না দেওয়া সরকারের ব্যর্থতা। প্রকল্পের ভবন নির্মাণে কোনো অনিয়ম হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জবাবদিহি করতে হবে। এসব ভবনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন