মিসরে ৬ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে জাতিসংঘের কপ–২৭ জলবায়ু সম্মেলন। টিআইবি বলছে, সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের উচিত হবে উন্নত দেশের প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদেয় অর্থ সরবরাহে একটি রোডম্যাপ ঘোষণায় উন্নত দেশগুলোকে রাজি করানো।

সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও দাবানলের মতো ঘটনা প্রকটতর হয়েছে। অথচ কার্বন নিঃসরণকারী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও রপ্তানি বেড়েছে। কয়লাভিত্তিক জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন বেড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে সোচ্চার হওয়া উচিত

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ২০২০ সাল থেকে প্রতিবছর জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে উন্নত দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে। জলবায়ু তহবিল ‘উন্নয়ন সহায়তার বাড়তি’ এবং ‘নতুন ও অতিরিক্ত’ হলেও কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই উন্নয়ন সহায়তার সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়নকে মিলিয়ে গত দুই বছরে মাত্র ৮৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, উন্নত দেশগুলোর বাধায় ২০২১ সালের জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পৃথক তহবিল গঠন করা সম্ভব হয়নি। বরং ক্ষতিগ্রস্ত দেশে খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় প্যারিস চুক্তির আলোকে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, প্রশমন ও অর্থায়নকে গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে নিজেদের স্বার্থে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

টিআইবির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্যারিস চুক্তিতে জলবায়ু অর্থায়নের সর্বসম্মত সংজ্ঞা না থাকায় ‘নতুন’ ও ‘অতিরিক্ত’ সহায়তাকে ঋণ হিসেবেও দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রদত্ত মোট বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ৭০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির কারণে ২০০৯ সালের প্রতিশ্রুত প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার এখন আর পর্যাপ্ত নয়, কেননা ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু তহবিলের চাহিদা প্রতিবছর ১৪০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ক্রমবর্ধমান অভিযোজন ও প্রশমন চাহিদা মেটাতে অর্থায়নের নতুন সম্মিলিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণও জরুরি।