শিক্ষার্থীরা বলছেন, ইনস্টিটিউটের শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থা জীর্ণশীর্ণ। ছাত্রীদের জন্য মাত্র একটি শৌচাগার আছে। আবাসন সুবিধা পান মাত্র ১৩ শিক্ষার্থী। গ্রন্থাগারে বই নেই। ডাইনিংয়ে খাবারের ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাঁরা মূল ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে চান।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম প্রথম আলোকে বলেন, চারুকলাকে ক্যাম্পাসে নিতে কর্তৃপক্ষ এত দিন আইনি জটিলতার কথা জানালেও বস্তুত জটিলতা নেই। এটি শুধু একটি প্রক্রিয়া। আজকের বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল কমিটিকে জানিয়েছে, তারা মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে ক্লাস করবেন। তত দিন ইনস্টিটিউটে অবরোধ চলবে। মূল ফটকে তালা ঝোলানো থাকবে।

জানতে চাইলে সমস্যা সমাধানে গঠিত কমিটির সদস্য ও সহকারী প্রক্টর মুহম্মদ ইয়াকুব প্রথম আলোকে বলেন, চারুকলা ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে সময় প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কয়েক দিনের সময় দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।  

তাহলে কমিটি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জানতে চাইলে মুহাম্মদ ইয়াকুব বলেন, আগামী রোববার কমিটি সিদ্ধান্তের কথা লিখিতভাবে উপাচার্য শিরীণ আখতারকে জানাবে। এখন তারা প্রক্রিয়াগুলো শনাক্ত করেছে।  

শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১১ দফা দাবিতে ২ নভেম্বর ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে তাঁদের ক্লাস বর্জন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ৫ নভেম্বর উপাচার্য বরাবর চিঠি দেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার তাঁরা ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ১০ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম নগরের বাদশা মিয়া সড়ক অবরোধ করেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পরদিন ১১ নভেম্বর চারুকলা ইনস্টিটিউটের চলমান সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ১৪ সদস্যের কমিটি করে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার সকালে মূল ক্যাম্পাসের দাবিতে ইনস্টিটিউটের ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর কমিটির তিন সদস্য গিয়ে শিক্ষার্থীদের সভায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আজ সভা হয়।