নগরের চন্দনপুরা এলাকার মেসার্স রেহান ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মনজুরুল আমিন চৌধুরী অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ঋণ নেন। এ ঘটনায় ২০০৭ সালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য মামলা হয়। ২০১১ সালে আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। ২০১১ সালে সোলেনামা জমা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেন বিবাদী।

কিন্তু সোলেনামার শর্ত মোতাবেক বিবাদী কোনো টাকা পরিশোধ করেননি। পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালে মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত হয়। গত ১৫ জুন পর্যন্ত ২০ বার সময় নেন বিবাদী।

পরে অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে আদালতকে জানানো হয়, গত ২১ জুন ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেন বিবাদী। সুদ মওকুফের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হলে ৫ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের বোর্ড সভায় তাঁর ৫ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করা হয়।

অর্থঋণ আদালতের বিচারক আদেশে বলেছেন, কিস্তিতে সরকারি ভর্তুকিসহ পরিশোধের সুবিধা পেয়ে যে গ্রাহক কোনো টাকাই পরিশোধ করেনি তাঁকে ৫ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করে দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ খেলাপের প্রবণতা বাড়ছে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পরিশোধ না করার প্রত্যয় জন্ম নিচ্ছে। এই অবস্থায় প্রচলিত ব্যাংকিং নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সুদ মওকুফ করা হয়েছে কি না বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন যুগ্ম পরিচালককে দিয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হল। আইনগত খরচ আদায় না করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করায় অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আদেশ দেওয়া হল।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে দুটি আদেশের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক দয়াল চন্দ্র দেবনাথ আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, সুদ মওকুফের বিষয়টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের। মামলার খরচের টাকা আদায় হয়েছে, আদালতকে জানানো হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন