২০ ফেব্রুয়ারি ‘একতরফা’ বইমেলা আয়োজন না মানার ঘোষণা প্রকাশক সমাজের
এ বছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। তবে বাংলা একাডেমির এ সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রকাশকদের একটি অংশ।
‘বাংলা একাডেমির “একতরফা” সিদ্ধান্তে “প্রাণহীন” বইমেলার আয়োজন: প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে “মানবিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয়” মেনে নেবে না প্রকাশক সমাজ’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ শত শত প্রকাশকের প্রাণের দাবি ও অস্তিত্বের সংকটকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘একুশে বইমেলা–২০২৬’ আয়োজনের যে ঘোষণা দিয়েছে, সৃজনশীল প্রকাশকেরা তাতে গভীর বিস্ময় ও চরম হতাশা প্রকাশ করছেন। বাংলা একাডেমির এ সিদ্ধান্তকে তাঁরা আত্মঘাতী, অগণতান্ত্রিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মনে করছেন।
বাংলা একাডেমি নিজেদের সিদ্ধান্তে ঝড়বৃষ্টি ও গরমের অজুহাত দেখিয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তারা ভুলে গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে চোখের সামনে দেখা দেওয়া নিশ্চিত মানবিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয় অনেক বেশি ভয়ের।’
বিবৃতিতে প্রকাশকেরা কয়েকটি বিষয়ে পুনরায় উদ্বেগের কথা জানান। তাঁরা বলেন, রোজার দিনে বইমেলা শুরু হলে পাঠক ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসবেন না। পাঠক ও ক্রেতা ছাড়া বইমেলা কেবল একটি নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে। এ ছাড়া বিবৃতিতে স্টলকর্মীদের মানবিক দিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন প্রকাশকেরা।
প্রকাশকেরা প্রশ্ন রাখেন, মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি হলেও মেলার আত্মা প্রকাশক ও পাঠক। যেখানে প্রকাশকেরা প্রস্তুত নন এবং পাঠকেরা আসার সুযোগ পাবেন না, সেখানে মেলা কার জন্য?
ইতিমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের প্রকাশকেরা লিখিতভাবে ২০ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ঈদের পরে মেলা আয়োজনের পক্ষে সম্মতি দিয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে মেলা আয়োজন করলে তা ইতিহাসের অন্যতম ব্যর্থ ও কলঙ্কিত আয়োজন হিসেবে গণ্য হবে।’
প্রকাশকেরা সরকারের উচ্চপর্যায় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন, যাতে বাংলা একাডেমি তাঁদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী প্রকাশকেরা হলেন মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউস), এ কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন), জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন), মাহ্রুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল), মাহাবুব রাহমান (আদর্শ), মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), মিজানুর রহমান (শোভা প্রকাশ) এবং ইফতেখার আমিন (শব্দশৈলী)।