বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে: খলিলুর রহমান
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি খলিলুর রহমান বলেছেন, বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে শেষ করা সম্ভব না–ও হতে পারে। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি থাকবে না। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে আরেকবার বসল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে খলিলুর রহমান শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতির দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে খলিলুর রহমান বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার মতো সরল ব্যক্তি আমি নই। কিছু বিষয় আছে, যা সমাধান ছাড়া থেকে যাবে।
কিছু বিষয় থাকবে, সেগুলোর সমাধান পেতে আমাদের সময় লাগতে পারে। তার মানে এই নয় যে যেখানে আমরা পারি সেখানে সহাবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা আমরা করব না। সেটা করার চেষ্টাই আমি অব্যাহতভাবে করে যাব।’
জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, সদস্যরাষ্ট্রগুলো যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে।’
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক সংস্থার সংস্কারে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান খলিলুর রহমান। নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন অংশের মানুষকে জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা জাতিসংঘে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, যেখানে তাদের প্রতিনিধিত্বই নেই, এমন এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে তিনি পরিস্থিতি সরাসরি দেখেছেন। তাদের যন্ত্রণা ও বাড়ি ফেরার তাড়নাও প্রত্যক্ষ করেছেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।