মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক কাউন্সিল গঠন, আছেন বাংলাদেশের দুজন

(ওপরে বাঁ থেকে ) হিনা জিলানি, সুলতানা কামাল, হামিদা হোসেন (নিচে বাঁ থেকে ) সৈয়দা হামিদ, কনক মণি দীক্ষিত, সিমা সামারছবি: এমএসএফ এর সৌজন্যে

মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিশিষ্ট ও প্রবীণ মানবাধিকারকর্মীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক কাউন্সিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ কাউন্সিল দক্ষিণ এশিয়ার সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর জোরদার করা, আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী করা এবং সুশীল সমাজের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে কাজ করবে। বাংলাদেশসহ চার দেশের ছয়জন খ্যাতিমান মানবাধিকারকর্মী এই কাউন্সিলে আছেন।

আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কাউন্সিলে স্থান পাওয়া ছয় মানবাধিকারকর্মী হলেন বাংলাদেশের সুলতানা কামাল ও হামিদা হোসেন, পাকিস্তানের হিনা জিলানি, ভারতের সৈয়দা হামিদ, নেপালের কনক মণি দীক্ষিত এবং আফগানিস্তানের সিমা সামার।

এমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়া গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের পর থেকে এ অঞ্চলে অন্তত তিনটি যুব নেতৃত্বাধীন গণ–আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এই পটভূমিতে এসএএইচআর প্রতিরোধশীলতা, নৈতিকতা ও নীতিনির্ভর শক্তিশালী নেতৃত্বের জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আন্তরাষ্ট্র ও সীমান্ত অতিক্রমকারী সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের আঞ্চলিক নেতৃত্ব অপরিহার্য বলে মনে করে।

গ্লোবাল নর্থে (শিল্পোন্নত দেশ) গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই অঞ্চলের জনগণকে সংকটাপন্ন করে তুলছে এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত দুর্বলতাকে আরও প্রকট করছে। এই বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব জ্ঞান, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি নতুন, আঞ্চলিকভাবে প্রোথিত প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ ধরনের উদ্যোগ চলমান গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মৌলিক স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল পুনর্গঠনে সহায়তা করবে এবং সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশীয় কাউন্সিলররা অঞ্চলটির জনগণের স্বার্থে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা, নৈতিক অবস্থান ও প্রভাব ব্যবহার করবেন। কৌশলগত প্রচারণার মাধ্যমে তাঁরা কর্তৃত্ববাদ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িকতার উত্থানসহ আন্তসম্পর্কিত নানা সংকটকে দৃশ্যমান করার উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে সংঘাত ও এর মূল কারণ ও পরিণতি, বৈষম্য ও বর্জন, ন্যায়বিচার, শরণার্থী ও অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিকতা—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণে কাজ করবেন।