স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল পাঁচজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল। আজ ছয়জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যু সাধারণ মানুষ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের কাছে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বলেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রথম তিন দিনের মধ্যে বেশি রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এর কারণ, রোগীর পরিস্থিতি বেশ খারাপ হওয়ার পর হাসপাতালে আনা হচ্ছে।

এখন মৌসুমি জ্বরের কিছুটা প্রকোপ আছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে কিছু মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। টাইফয়েড ও প্যারাটাইফয়েডেও মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন। এর সঙ্গে আছে ডেঙ্গু। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর মানুষ সহজে বুঝে উঠতে পারছেন না যে তিনি সাধারণ জ্বরে নাকি করোনা, টাইফয়েড বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। অনেকে রোগনির্ণয় পরীক্ষা করাতে বিলম্ব করছেন। এটাই ঝুঁকির অন্যতম কারণ।

বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা শহরের পর ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে কক্সবাজার জেলায়। এই জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৯১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৩ জন। ঢাকা শহরের বাইরে দেশের আর কোনো শহর বা জেলায় এ বছর এত মৃত্যু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের শিবিরগুলোতে। শিবিরে ঘনবসতির পাশাপাশি সেখানকার বাসিন্দারা পানি ধরে রাখেন। এই পানি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়তা করছে।

এ বছর ডেঙ্গু সংক্রমণের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে, দেশের ৫০টির বেশি জেলায় এ বছর ডেঙ্গু দেখা দিয়েছে। ডেঙ্গুর চারটি ধরনের মধ্যে তিনটিই এখন বাংলাদেশে সক্রিয়।