নিম্ন আদালতের এক আদেশের বিরুদ্ধে জি এম কাদেরের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল হাইকোর্ট রুলসহ স্থগিতাদেশ দেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরকে কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে নিম্ন আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের আদেশের ফলে জি এম কাদেরের দায়িত্ব পালনের পথ খুলে যায়। তবে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে জিয়াউল হক মৃধা আপিল বিভাগে আবেদন করেন, যা আজ চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে জিয়াউল হক মৃধার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। জি এম কাদেরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

পরে আইনজীবী মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ ৫ ডিসেম্বর (আগামী সোমবার) পর্যন্ত স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আবেদনটি সেদিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এ সময়ে জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।’

গত ৪ অক্টোবর জাপা থেকে বহিষ্কৃত নেতা দলটির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেন। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ অক্টোবর ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে জি এম কাদেরের দলীয় কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।

পরে এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের আবেদন গত ১৬ নভেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। এর বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মিস আপিল করেন তিনি। আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য ৯ জানুয়ারি দিন রাখা হয়। এ অবস্থায় শুনানি এগোনোর জন্য আবেদন করেন জি এম কাদের, যা ২৪ নভেম্বর খারিজ হয়। এর বিরুদ্ধে গত সোমবার হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন জি এম কাদের, যার ওপর গতকাল শুনানি ও আদেশ হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এরপর বিবাদী জি এম কাদের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট মামলা বিচারাধীন থাকার পরও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ওই বছর ২৮ ডিসেম্বর কাউন্সিল করে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন।

গত ৫ মার্চ গাজীপুর মহানগর কমিটির উপদেষ্টা আতাউর রহমান সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর শিকদার, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক রফিকুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আজিজকে বহিষ্কার করা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাদী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাকেও জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়, যা অবৈধ।