সাগর হত্যা মামলায় দায়রা আদালতেও জামিন হয়নি মমতাজের
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. সাগর নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বুধবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৭–এর বিচারক তাওহীদা আক্তারের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ১৭ মে এই মামলায় জামিন চাইলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তা নামঞ্জুর করেন।
আজ আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম মমতাজ বেগমের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামি একজন নারী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও প্রথিতযশা শিল্পী। মামলার এজাহারে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দমনে অপরাপর আসামিদের সঙ্গে তিনিও অর্থের জোগানদাতা ও পরিকল্পনার কথিত কার্য সম্পন্ন করেন বলে এজাহারে উল্লেখ থাকলেও এর বস্তুনিষ্ঠ কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই।
রেজাউল আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ মামলায় অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার আইনি অধিকার সংরক্ষণ করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থানাধীন ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে নির্বিচার গুলি চালান পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান মো. সাগর নামের এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় সেই বছরের ২৭ নভেম্বর নিহতের মা বিউটি আক্তার মিরপুর থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের উল্লেখ করে ২৪২ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মমতাজ বেগম এই মামলায় ৪৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।
২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।