৭৫ বছর বয়সী নারীর লাশ উদ্ধার: মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি করতে নির্দেশ কেন নয়
রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিচে নন, এমন একজন বিচারিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ রুল দেন।
মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক ও এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
নূর জাহান বেগম তাঁর মেয়ের সঙ্গে যে বাসায় থাকতেন, সেই বাসার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের ঘরসহ পুরো ফ্ল্যাটের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।
এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে কয়েকটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার ৩ জুন রিটটি করেন।
রিটের প্রার্থনার অংশবিশেষ সংশোধন করে আজ সম্পূরক একটি আবেদন দেয় রিট আবেদনকারী পক্ষ। গতকাল সোমবার ও আজ শুনানি হয়। শুনানি নিয়ে আজ রুল দেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মির্জা আল মাহমুদ ও আখতার হোসেন মো. আবদুল ওয়াহাব।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাগরিকদের জন্য পরিচর্যাকারী (কেয়ারগিভার) বা নার্স নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও নিয়োজিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মৃত নূর জাহান বেগমের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নিরূপণে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত পরিচালনায় নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
তিনটি বিষয়ে রুল হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী সানজীদ সিদ্দিকী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, সমাজকল্যাণসচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।