আবরার ফাহাদ স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা
শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী ও নিপীড়নবিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস, নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সকাল নয়টায় মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে শুরু হয় চিত্র প্রদর্শনী। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিগত সময়ে সংঘটিত নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়। পরে বেলা তিনটায় একই স্থানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময়ে ‘শত শত নির্যাতন ও নিপীড়ন’ হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও ভারত একই সূত্রে গাঁথা। ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ক্যাম্পাসগুলোকে ‘জাহান্নাম’ বানিয়ে রেখেছিল।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন আওয়ামী লীগের ‘জেরক্স কপিতে’ পরিণত হয়েছে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সেগুলো ছিল সবার কথা এবং সেই ‘স্ফুলিঙ্গ’ পাঁচ বছর পর বড় আকার ধারণ করে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হচ্ছে ‘ভায়োলেন্সমুক্ত ক্যাম্পাস’ নিশ্চিত করা। অতীতে মধুর ক্যানটিনে দিনের পর দিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। আবরার ফাহাদ ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একই ধারায় মেজর জিয়া, খালেদা জিয়া ও শহীদ ওসমান হাদীসহ জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা কথা বলেছেন। বর্তমানে এই নতুন বাংলাদেশে ‘শত্রু ও মিত্র’ চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিকের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান।
এ ছাড়া সভায় ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।