তবে মুখের স্বাস্থ্যের আলোচনায় দাঁত প্রাধান্য পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুস্থ ও ভালো থাকার জন্য দাঁত, জিবের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। মুখের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তার প্রভাব পড়ে হৃদ্‌যন্ত্রে ও কিডনিতে। ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ এ ক্ষেত্রে সুরক্ষার বড় উপায়।’

১০ শতাংশের মুখের স্বাস্থ্য খারাপ

গবেষকেরা সিলেটের জকিগঞ্জের অস্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ৯০ জন শিক্ষার্থীকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে বাছাই করেছিলেন। তাদের বয়স ছিল ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। মুখের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা জন্য গবেষকেরা ভালো, মোটামুটি ও খারাপ—এই তিনটি মাপকাঠি ব্যবহার করেছিলেন। শ্রেণিকক্ষে চেয়ারে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখের গর্তগুলো ও দাঁত পরীক্ষা করেছিলেন একজন ডেন্টাল সার্জন। মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশপাশি দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা ও সচেতনতা জানারও চেষ্টা করেন গবেষকেরা।

গবেষকেরা দেখেছেন, ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থীর মুখের স্বাস্থ্য ভালো। অন্যদিকে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মুখের স্বাস্থ্য খারাপ। বাকি ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর মুখের স্বাস্থ্য মোটামুটি অর্থাৎ সতর্ক না হলে, সচেতন না হলে তাদের মুখের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গবেষণা প্রবন্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের দুটি পৃথক গবেষণার উদ্ধৃতি দেওয়া আছে। ভারতের গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলগামী ৮০ শতাংশ শিশুর মুখের স্বাস্থ্য ভালো। অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর মুখের স্বাস্থ্য ভালো।

গবেষকেরা বলছেন, মুখের স্বাস্থ্য ভালো থাকার সঙ্গে মুখের স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্ঞানের সম্পর্ক আছে। কীভাবে মুখ পরিষ্কার রাখতে হয়, কীভাবে দাঁতের যত্ন করতে হয়—এগুলো যারা জানে, তুলনামূলকভাবে সেসব শিক্ষার্থীর মুখের স্বাস্থ্য ভালো।

৭৩ শতাংশ একবার দাঁত ব্রাশ করে

ঢাকা ডেন্টাল কলেজের গবেষণাটিতে রোগনির্ণয়সংক্রান্ত রিপোর্ট ও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশপাশি রোগীদের কাছ থেকেও কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছিল। রোগীদের মধ্যে শিশু ও কিশোর–কিশোরী ছিল ১৩ জন।

গবেষকেরা বলছেন, ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ না করার কারণে ২৬ শতাংশের মুখে রোগ হয়েছে। অন্যদিকে ১৩ শতাংশের মুখের রোগের কারণ খাদ্যাভ্যাস। রোগীদের ৭৩ শতাংশ দিনে একবার এবং ২৭ শতাংশ দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করে।

এসব রোগীর ৪২ শতাংশ হাসপাতালে এসেছিল দাঁত ক্ষয় হয়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য। ৩ শতাংশের সমস্যা ছিল দাঁত ভেঙে যাওয়ার। ৪৮ শতাংশের মাড়ি ফোলার সমস্যা ছিল। তিনজনের ছিল একাধিক সমস্যা। বাকি চারজনের অন্যান্য সমস্যা ছিল।

রোগীদের মধ্যে একজনকেও পাওয়া যায়নি যে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা প্রতিদিন পরিষ্কার করে। তবে ৩ শতাংশ বলেছে, তারা কাজটি সপ্তাহে দু–তিনবার করে। ১১ শতাংশ বলেছে, তারা মাসে একবার করে। ৮৬ শতাংশ বলেছে, তারা এটি কোনো দিন করে না।

উপসংহারে গবেষকেরা বলেছেন, মাড়ি ফোলা ও দাঁত ক্ষয় হওয়ার সমস্যা সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি। দাঁতের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্ঞানের ঘাটতি আছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন গবেষকেরা।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন