প্রথম আলো গত মে মাসে অনুসন্ধান করে দেখেছিল, ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হওয়া যত মানুষ সেবা নেন, তাঁদের ৬৫ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। গত মে মাসের প্রথম সাত দিনে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় আহত ১ হাজার ৪৭৪ জন পঙ্গু হাসপাতালে সেবা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই ছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কেউ হাত বা পা ভাঙলে সুস্থ হতে ৩ থেকে ৯ মাস সময় লাগছে।

■ দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। শুধু রাজধানীতেই চলছে ১৫ লাখের বেশি মোটরসাইকেল।

■ চলতি বছর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাড়ে ১৬ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। 

দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা প্রতিবেদন তৈরি করে। গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে তারা বলেছে, চলতি বছর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাড়ে ১৬ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছর। আর ৭৩ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এ বছর এখন পর্যন্ত ৭৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। আর মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ৯৪৫ জন। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৪৬৩ জন। আর ২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ২ হাজার ২১৪ জন। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই মৃত্যুর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় অনেকে ক্ষেত্রেই চালকেরা নিয়ম মানছেন না। আবার ঢাকার বাইারে চালক ও আরোহীদের মধ্যে হেলমেট পরার প্রবণতা কম। এক মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি না ওঠার নিয়মটিও ঠিকমতো মানা হয় না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চলে। অনেকেরই মোটরসাইকেল চালানোর কোনো প্রশিক্ষণ
থাকে না।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দেশে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬২৯টি। মোটরসাইকেলের পেছনে অন্য যানবাহনের ধাক্কা ও চাপা দেওয়ার ঘটনা ৯৫৮টি, অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৩৭৪টি। আর ৮৩৭টি দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেলচালক নিজেই এককভাবে দায়ী।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’–এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, গণপরিবহন উন্নত করা, সড়ক-মহাসড়কে সড়ক বিভাজক নির্মাণ করা এবং বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো অন্যতম। 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। শুধু রাজধানীতেই চলছে ১৫ লাখের বেশি। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব এবং যানজটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।