অপতথ্য মোকাবিলায় প্রয়োজন গণমাধ্যম সচেতনতা ও তথ্য যাচাই

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌজন্যে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের যুগে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার আয়োজিত এই সভায় বক্তারা অপতথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় মিডিয়া লিটারেসি (গণমাধ্যম সচেতনতা) এবং ফ্যাক্ট-চেকিং (তথ্য যাচাই) সেবা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে তথ্য প্রচার আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় ঝুঁকি বয়ে আনছে।’ এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও সত্যের অভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে।’ তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য ও অপতথ্য) কেবল বিভ্রান্তিই ছড়াচ্ছে না, বরং এগুলো আস্থাকে দুর্বল করছে, সামাজিক বিভাজনকে তীব্র করছে এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

একাডেমিক বিশ্লেষণে এস এম রেজওয়ান উল আলম বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে মিডিয়া লিটারেসির বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সরকার, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক বলেন, আমাদের সত্য অনুসন্ধানের প্রতি অধিক মনোযোগী হতে হবে, যাতে ভুল ও অপতথ্য না ছড়ায়। গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনি দেশে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সংলাপে সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহেদ আলম বলেন, সাংবাদিকতা ও অ্যাক্টিভিজমের (কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ) ক্ষেত্রে নৈতিক ভিত্তিগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তথ্য ও ছবি যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জোবায়ের বাবু বলেন, গণমাধ্যম এখন আগের মতো নেই। অনেকেই এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, যা তাদের (সাধারণ মানুষ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর বেশি নির্ভরশীল করে তুলছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফুটেজ, ভিডিও ও অডিও টেম্পারিং (অবৈধ পরিবর্তন বা বিকৃত করা) থেকে বাঁচতে হবে।’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক বিভ্রান্তিমূলক ভিডিও রোধে সরকারি উদ্যোগে ফ্যাক্ট-চেকিং সেবা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।