শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলামের মৃত্যু, মায়ের কবরে সমাহিত হবেন
শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় অসুস্থ হয়ে ১৩ আগস্ট রাজধানীর একটি হাসপাতালে আমীরুল ইসলামকে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার রাত তিনটার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
আজ শুক্রবার তিন দফা জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর মা আনজিরা খাতুনের কবরে আমীরুল ইসলামকে সমাহিত করা হবে।
জুমার নামাজের পর বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে আমীরুল ইসলামের প্রথম জানাজা হবে। এরপর বেলা তিনটায় বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে। সেখানে বেলা সাড়ে তিনটায় তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আসরের নামাজের পর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানসংলগ্ন গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তাঁর তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
আমীরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হতো। সর্বশেষ এই জটিলতায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
আমীরুল ইসলামের জন্ম ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া, কবিতা ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। এর অধিকাংশই শিশুসাহিত্যনির্ভর।
শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান আমীরুল ইসলাম। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান নির্মাণ, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
তাঁর মৃত্যুতে চ্যানেল আইয়ের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।