ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র নির্মাণে সহায়তায় ‘ফজলুল হক ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে ‘ফজলুল হক স্টুডেন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন সাপোর্ট ট্রাস্ট ফান্ড’-এর চেক হস্তান্তর করছেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরছবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ‘ফজলুল হক স্টুডেন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন সাপোর্ট ট্রাস্ট ফান্ড’ শীর্ষক নতুন একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। প্রয়াত পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর অনুদানের একটি চেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ট্রাস্ট ফান্ডের আয় থেকে প্রতিবছর টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েট প্রোডাকশন নির্মাণের জন্য এককালীন বৃত্তি দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম, চ্যানেল আইয়ের নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাসুদ ও রন্ধনবিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংবাদিক রেজানুর রহমান, মীর মাসরুর জামান, আবদুল্লাহ জেয়াদসহ বিভাগের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য দাতা পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এই ট্রাস্ট ফান্ড সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অ্যালামনাই ও ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া টেলিভিশন চ্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিতে তিনি চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, প্রয়াত ফজলুল হক একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথিকা লিখতেন। ১৯৯০ সালে ৬০ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির চার সন্তানের সবাই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত।