চিড়িয়াখানাটির ভারপ্রাপ্ত কিউরেটর শাহদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে দেশের ভেতর থেকে সিংহ-সিংহীর একটি জুটি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলাম। দেশের সাফারি পার্কগুলোর কাছে চেয়ে তা পাইনি। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুই বছরের কম বয়সী সিংহ-সিংহীর একটি জুটি আমাদের চিড়িয়াখানায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’

একই দেশ থেকে আটটি ওয়াইল্ড বিস্ট আসার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। এ ছাড়া কিছুদিন আগে দেশটি থেকে ক্যাঙারু, লামা ও ম্যাকাও পাখি এসেছে।

ভারপ্রাপ্ত কিউরেটর শাহদাত হোসেন বলেন, চিড়িয়াখানায় থাকা একমাত্র সিংহী নোভা বুড়িয়ে গেছে। এ কারণেই কম বয়সী সিংহ-সিংহীর একটি জুটি আনার বিষয়টি সামনে আসে। এর সঙ্গে আরও চার ধরনের প্রাণী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনার সিদ্ধান্ত হয়। এক জুটি সিংহ-সিংহী, ক্যাঙারু, লামা, ওয়াইল্ড বিস্ট, ম্যাকাও পাখি আমদানি বাবদ খরচ পড়ছে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

সিংহ-সিংহী সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছর বাঁচে। আড়াই থেকে তিন বছর বয়সেই তারা প্রজননক্ষম হয়। ১২ বছর পর তাদের প্রজনন ক্ষমতা আর থাকে না। নোভার বয়স ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে।

২০০৫ সালের ১৬ জুন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রাজ-লক্ষ্মী সিংহ-সিংহী জুটির পরিবারে জন্ম নিয়েছিল দুটি সিংহী। তাদের নাম রাখা হয় ‘বর্ষা’ও ‘নোভা’। তাদের জন্মের কিছুদিন পর ‘লক্ষ্মী’ মারা যায়। আর ২০০৮ সালে মারা যায় ‘রাজ’।

২০১৬ সালে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে বাদশাহকে এনে নোভার সঙ্গে ‘বিয়ে’দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে নোভার বোন ‘বর্ষাকে’ পাঠানো হয়েছিল রংপুরে। তখন থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় একসঙ্গে ছিল বাদশাহ-নোভা জুটি।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২০১৬ সালে এক জোড়া বাঘ আনা হয়েছিল। বংশ বৃদ্ধি করে এখন তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬। এর মধ্যে ৫টি রয়েছে সাদা বাঘ।

১৯৮৯ সালে বন্দরনগরীর ফয়’স লেক এলাকায় ছয় একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই চিড়িয়াখানায় বর্তমানে বাঘ, সিংহী, হরিণ, কুমির, ভালুকসহ প্রায় ৭০ প্রজাতির পাঁচ শতাধিক পশু-পাখি রয়েছে।

দর্শনার্থী প্রবেশ ফি থেকে অর্জিত আয় দিয়ে চিড়িয়াখানার পশু-পাখির খাদ্য জোগানো হয়। এই আয় থেকেই নতুন নতুন প্রাণী সংগ্রহ করা হয়। দর্শনার্থী ফি বাবদ দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয় বলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়।