কার নির্দেশ বা অনুরোধে এই তিন মামলা ট্রাইব্যুনালে করা হলো, প্রশ্ন আইনজীবীর

আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বর্তমান–সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক তিনটি মামলা কার নির্দেশ বা অনুরোধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আইনজীবী হামিদুল মেজবাহ এই প্রশ্ন তোলেন।

ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের ঘটনায় দুটি এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যার ঘটনায় একটি মামলায় বর্তমান ১৫ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার আছেন। গ্রেপ্তার এই সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আইনজীবী হামিদুল মেজবাহ বলেন, এই তিনটা মামলা আসলে ট্রাইব্যুনালের অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে না। আসামিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে না। আসামিরা সার্ভিং আর্মি অফিসার। সেনা আইনের অধীনেই তাঁদের বিচার হতে পারে। এখনো যথেষ্ট সুযোগ আছে তা করার। তা ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে। এভাবে যে আইন সংশোধন করা হলো, তার কারণ তদন্ত করা উচিত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী হামিদুল মেজবাহ বলেন, এই আইন (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) বাদেও তাঁদের (আসামি) যে মাদার অ্যাক্ট (সেনা আইন) আছে, সেই আইনেই তাঁদের বিচার করা উচিত ছিল। সেখানেই বিচার সম্ভব ছিল। তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) যখন এই সংশোধনগুলো আনে, এখানে বিচার (সেনাসদস্যদের ট্রাইব্যুনালে বিচার) করার জন্য, তারা কিন্তু আইনটাকে বদলেছে। তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) সুস্পষ্ট জ্ঞান ছিল যে সেনা আইনে এই বিচার করা সম্ভব। এবং সেনা আইন রয়েছে। সেনা আইন থাকা সত্ত্বেও তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) এই আইনকে ঘষামাজা করে সংশোধন করে এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছে, যেটা সেনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সে কারণে তাঁরা (আসামিপক্ষ) মনে করেন, এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

আইনজীবী হামিদুল মেজবাহ দাবি করেন, এই মামলা তিনটির নির্দেশনা এসেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে। তিনি বলেন, যেহেতু তাঁর কাছ থেকে নির্দেশনা এসেছে, তাই এখানে এই মামলাগুলো করার ব্যাপারে একটি তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি কিসের পরিপ্রেক্ষিতে, কার নির্দেশে বা অনুরোধে এই মামলাগুলো এখানে হওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছিলেন, তার তদন্ত হওয়া দরকার।