অবৈধ ইটভাটা বন্ধ বা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে গত বছর একটি রিট করা হয়। এর শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে দেশের অবৈধ সব ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের ব্যবস্থা নিতে এবং ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধ নিশ্চিত করতে দেশের জেলা প্রশাসকদের সাত দিনের মধ্যে কার্যকর নির্দেশনা দিতে বলা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন জমা পড়ে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি। আদালতের আদেশ অনুসারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গত ১৩ জানুয়ারি নির্দেশনা জারি এবং তদারকি দল গঠন করেছেন বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে ২২২টি এবং ঢাকা বিভাগে ৮৮৬টি অবৈধ ইটভাটা আছে বলে দুই বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার প্রতিবেদনে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষতিতে ১ হাজার ৮৪টি ইটভাটা বন্ধ বা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদনটি করা হলে আদালত ওই আদেশ দেন।’  

রিট আবেদনকারী পক্ষ জানায়, ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না। এমনকি জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহারও নিষিদ্ধ। অথচ দেশের বেশির ভাগ জেলায় শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এসেছে। কাঠ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যে কারণে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।