র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

বেসরকারি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’–এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানছবি: রুনা খানের ফেসবুক থেকে নেওয়া

‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের রুনা খান। তিনি বেসরকারি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’–এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক।

রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফ্রেন্ডশিপ একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা (এসপিও)। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে সবাই, বিশেষ করে যাঁদের কাছে পৌঁছানো কঠিন, যাঁদের প্রয়োজনের বিষয়টি উপেক্ষিত, তাঁরা মর্যাদা ও আশা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ পাবেন। সংস্থাটি সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করে। তারা যেসব জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে, তাদের স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ফ্রেন্ডশিপের লক্ষ্য প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া, পরিবেশগত সংকট, চরম দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবিচারের মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিষ্ঠানটির এই লক্ষ্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।

আরও পড়ুন
২০২৬ সালের র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া তিন ব্যক্তি
ছবি:

এবার আরও দুই ব্যক্তি এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি।

টমি কোহ সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, আইনজীবী, অধ্যাপক ও লেখক। বো চি মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী, সাবেক রাজনৈতিক বন্দী।

আজ সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে রুনা খান
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

এ পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবার ৬৮তম র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। এই উৎসবের সমাপনীপর্বে আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলায় পুরস্কারজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

‘ফ্রেন্ডশিপ’–এর এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই দশকের বেশি সময় ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত, সামগ্রিক ও স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক উন্নয়ন সমাধান গড়ে তোলায় নেতৃত্ব, সাহস ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি হিসেবে রুনা খান এই সম্মাননা পেলেন।

আরও পড়ুন
বাংলাদেশ সফরকালে সেলফি তুলছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তাঁর পাশে রুনা খানফাইল ছবি:এএফপি
ফাইল ছবি: এএফপি

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর নামে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান। একই বছর র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৮ সালে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

৩১ আগস্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন। আজ তাঁর ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। প্রতিবছরের ৩১ আগস্ট তাঁর জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের এমন কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যা র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। এসব মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে অন্যের সেবায় নিয়োজিত থাকা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করা।

আরও পড়ুন
রুনা খানকে অভিনন্দন জানিয়েছে ‘ফ্রেন্ডশিপ’
ছবি: ফ্রেন্ডশিপের ওয়েবসাইট

ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হতো মোট ছয় শ্রেণিতে। সেগুলো হলো—সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০০ সাল থেকে উদীয়মান নেতৃত্ব শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এই শ্রেণীর পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে শুধু এই ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া আর কোনো সুনির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে আবদ্ধ নেই পুরস্কারটি।