এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, নভেম্বর মাসে বিরোধী দল বিএনপির বিভাগীয় শহর বরিশাল, ফরিদপুর, ও সিলেটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে  বিরোধী দলের নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা সভাস্থলে যেতে বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে পরিবহন খাতকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করে মালিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট নেতারা ধর্মঘটের নামে সড়ক ও নৌপথে  যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

 আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় কর্মীদের এহেন বল প্রয়োগ নাগরিক জীবনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করছে। পুলিশবাহিনী সরকারদলীয় সংস্থায় পরিণত হয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য এবং এমএসএফ সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসে ৫৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের গুলিতে একজন ছাত্রদল নেতাসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সহিংসতার শিকার হয়েছেন মোট ৫২৭ জন। যাদের মধ্যে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, ৫১৭ জন আহত হয়েছেন।

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কথিত বন্দুকযুদ্ধে হতাহতের ঘটনা বন্ধ হয়নি। পুলিশ বা কারা হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন ও হয়রানি অনেকাংশে বেড়েছে।  ধর্ষণসহ নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা কিছুটা কমলেও তা এখনও  উদ্বেগজনক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে সাধারণ নাগরিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন চিন্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা বেড়েছে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বেড়েছে গণপিটুনির মতো আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনাও।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ১৯ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সিলেটের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিএনপির নেতা-কর্মীরা লিফলেট বিতরণ শেষে একটি মিছিল বের করেন। সে সময় পুলিশের গুলিতে রফিকুল ইসলাম ওরফে নয়ন মিয়া (১৮) নামের এক ছাত্রদল নেতা নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির দাবি, ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডাকালে পুলিশের একজন কনস্টেবল সরাসরি নয়নকে গুলি করে। ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ছাত্রদলের মশাল মিছিলের পর মিছিলকারীদের ওপর যুবলীগের হামলায় পালাতে গিয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মো. অমিত হাসান (১৮) নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়। ১৪ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের উপজেলা সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। ঢাকার ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৮ নভেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ে ছাত্রদল কর্মী আসিফ ও ইমরান হোসেনকে ডেকে নিয়ে মারধর করে ঢাকা জেলা (উত্তর) ছাত্রলীগের সহসভাপতি রনি আহম্মেদ ও সারোয়ার হোসেন বাবু নামের এক ইউপি মেম্বার। এ সময় ছাত্রদলের কর্মী আসিফের দাদা জৈনুদ্দিন প্রতিবাদ করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা তাঁর ওপরও হামলা করে। হামলায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

৫ নভেম্বর বরিশাল গণসমাবেশ যোগদানের সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান খান আহত হন । ২৮ নভেম্বর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।