প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রউফ, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, কে এম নূরুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম শাখাওয়াত হোসেন, শাহ নেওয়াজ, রফিকুল ইসলাম ও কবিতা খানম, সাবেক ইসি সচিব এম এ রেজা, সচিব মুহম্মদ সাদিক, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও হেলালুদ্দীন আহমেদ, ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ও মোখলেসুর রহমান অংশ নেন। আমন্ত্রিত ২৮ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৪ জন। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সাবেকদের পরামর্শ নিতে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভা শেষে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিভিন্ন কার্যালয়ে থাকতে পারে। এতে অসুবিধা নেই। এটা ইসির কাছে না থাকলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখেন এনআইডিতে একটি, ভোটার তালিকায় অন্যটা, তখন সমস্যা সৃষ্টি হবে।

সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, ভোটার তালিকা থেকেই এনআইডি এসেছে। এটা ইসির কাছে থাকা উচিত। এনআইডি ইসির কাছে না থাকলে লোকজন ভোটার হতে চাইবে না। মানুষের ভোটার হওয়ার অতটা আগ্রহ নেই। এখন এনআইডির জন্যই আগ্রহ বেশি। তিনি মনে করেন, এনআইডিতে কোনো দুর্বলতা থাকলে সেটাকে ঠিক করা যেতে পারে। এটাকে আরও মজবুত করা উচিত।

সাবেক সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, এনআইডি নির্বাচন কমিশনের তৈরি। এটা ইসির হাতে থাকলে সরকারের কোনো অসুবিধা হয় না। এনআইডির সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন, ভোটার তালিকার পুরোপুরি সম্পর্ক রয়েছে। এটাকে মাঝখান থেকে নিয়ে গেলে নির্বাচন কমিশনের কাজ করতে অসুবিধা হবে।

সাবেক কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এনআইডি সরকার কেন নিতে চাইছে, সেটা পরিষ্কার নয়। এতগুলো বছরে একটি সিস্টেম দাঁড়িয়েছে। এটা যদি আলাদা হয়, ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা নিয়ে কথা উঠবে। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এনআইডির নাম পরিবর্তন করলেন, বয়স পরিবর্তন করলেন, তখন ভোটার লিস্টের কী হবে? আল্টিমেটলি এটা নিয়ে একটি গন্ডগোল হবে।’

বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, এনআইডি সেবা ইসির হাতে থাকা প্রয়োজন—একবাক্যে সবাই এ কথা বলেছেন।

সরকার এনআইডি সেবা ইসি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আইনের খসড়া শর্ত সাপেক্ষে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।