মোমেনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে টুইট
গণমাধ্যমের গুরুত্বের ওপর জোর দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে মানবাধিকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এ বৈঠক হয়। এ সময় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপরও গুরুত্ব দেন ব্লিঙ্কেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টুইটারে একটি পোস্ট করেছেন ব্লিঙ্কেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়ে দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রশংসা করেছি। আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিবিড় করতে চাইছি, তখন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মানবাধিকার, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ যে গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়টিতে জোর দিয়েছি।’
সোমবারের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন আব্দুল মোমেন। সেখানেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে দুই মন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আব্দুল মোমেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, যে বিষয়গুলোতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, অবশ্যই। এটা আমাদের উদ্দেশ্য। আমরাও একটি মডেল নির্বাচন চাই। এ ব্যাপারে আপনারাও আমাদের সাহায্য করেন, যাতে আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে পারি।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ), গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, ডিএসএ করেছি, কিন্তু গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য তা করিনি। আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আমাদের দেশে ১ হাজার ২৫১টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ৪৩টি প্রাইভেট টিভি নেটওয়ার্ক আছে। তারা হাইপার অ্যাকটিভ। আমরা কোনো কিছু খর্ব করি না। আমাদের দেশে বিরোধী দল যখন–তখন বিক্ষোভ করতে পারে।’