ডাকসুর চার মাসে কী কাজ হয়েছে, জানালেন নেতারা
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম চার মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষার্থীদের জন্য কী কী কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত ‘ডাকসুর চার মাস: কার্যবিবরণী ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ বিবরণ তুলে ধরেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘ফলাফল ঘোষণার দিন আমরা বলেছিলাম, আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের কাজের জবাবদিহি করব। তার ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে আমরা দুই মাসের কাজগুলো জানিয়েছিলাম। আজকে চার মাসের কাজ ও উদ্যোগের বিবরণী সবার কাছে তুলে ধরছি।’
এ সময় ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা বাজেটের অজুহাতে বসে থাকিনি। আজ আমরা চাইলে বলতে পারতাম, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফান্ড পাইনি, তাই কাজ করতে পারিনি। কিন্তু আমরা সেই পথ বেছে নিইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই, দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে থাকা রিসোর্স পারসন এবং দাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা গত চার মাসে ডাকসুর কাজের মধ্যে রয়েছে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করতে রেজোল্যুশন আকারে প্রস্তাব পাস করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট পাঠানো, শেখ হাসিনার আজীবন সদস্যপদের রেজোল্যুশন বাতিল, আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদে এয়ারকন্ডিশনসহ জরুরি সংস্কারকাজ, দেড় হাজার ছাত্রী ধারণক্ষমতার ছাত্রী হল নির্মাণ দ্রুততর করার লক্ষ্যে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫টি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সম্মতি আদায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা–সুবিধা নিয়ে ডাকসুর উদ্যোগ তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ সময় জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের ১টি অ্যাম্বুলেন্স, ১০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, অ্যানালাইজার ও মাইক্রোস্কোপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া একাডেমিক এলাকা ও ছাত্রী হলগুলোতে বিনা মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সেমিনার, মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বারডেম হাসপাতালের সহযোগিতায় শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য স্বল্প খরচে স্তন ক্যানসারের চেকআপের সুযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য ৪টি সেমিনার আয়োজন, ৭টি প্রসিদ্ধ জার্নালে বিনা মূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে আলোকস্বল্পতা দূর করতে লাইটিং ও বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে নতুন ফ্যান সংযোজন করা, বিভিন্ন খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ স্কিল সামিট আয়োজন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ২৯টি ই-রিসোর্স সাবস্ক্রাইবের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবহন খাতে জরাজীর্ণ বাস পরিবর্তন এবং ট্রিপ ও সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় দুই কোটি টাকার বাজেটের ব্যবস্থা, সব রুটে সন্ধ্যকালীন বাস ট্রিপ চালু, ১৯টি ইলেকট্রিক শাটল চালু, সব ছাত্রী হলকে ক্যাম্পাস শাটলের আওতাভুক্ত ও উড়ালসড়কে ক্ষণিকা রুটের বাসগুলোর টোল ফ্রি করার কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।