গবেষণায় বলা হয়, পাঁচটি নগরই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ঢাকা বুড়িগঙ্গার, চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর, রাজশাহী গঙ্গার, খুলনা রূপসার ও সিলেট সুরমা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। এসব শহরে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নদী ও জলাভূমির ওপর চাপ পড়েছে। ঢাকায় বছরে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে, রাজশাহীতে ৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে পৌনে ৪ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বাড়ছে।

গবেষণা দলের সদস্য ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফ দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকাসহ এসব নগরে প্রতিবেশব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় ও সবুজ এলাকা ধ্বংস করা হচ্ছে। অথচ প্রকৃতির এসব উপাদান থেকে আমরা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যের জোগান ও স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া পেয়ে থাকি। এসব ধ্বংস করে কংক্রিটের ভবন, সড়ক ও নানা অবকাঠামো গড়ে তোলায় আমরা সেবা পাচ্ছি না। এতে শহরগুলোতে দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ছে ও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।’

এ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার দেশে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’ পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘প্রকৃতি রক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাই।’

গবেষণায় প্রতিবেশব্যবস্থার সেবা বলতে বোঝানো হয়েছে, একটি প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো টিকে থাকলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী বেশ কিছু সেবা পায়। যেমন জলাশয় এলাকার চেয়ে কংক্রিটের এলাকায় ১ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা থাকে। তাপমাত্রা বেশি থাকলে মানুষ বৈদ্যুতিক পাখা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নানা কিছু ব্যবহার করে। কোথাও সবুজ গাছপালা থাকলে তাপমাত্রা কমা থেকে শুরু করে ফলমূল, ঔষধিগাছ, পাখি ও প্রাণীদের বসবাসের জায়গা তৈরি হয়। এগুলো প্রতিবেশব্যবস্থার সেবা হিসেবে ধরা হয়।

গবেষণায় বলা হয়, ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জলাভূমি কমেছে সিলেট নগরে। জলাভূমি কমায় সবচেয়ে বেশি আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ঢাকাবাসী। ১৯৯১ সালে ঢাকায় সাড়ে ২৭ শতাংশ এলাকা সবুজ ছিল। ২০২১ সালে তা কমে ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে ৫০ থেকে কমে ২০ শতাংশ, খুলনায় ৪০ থেকে কমে ৩২ শতাংশ ও চট্টগ্রামে প্রায় ২৮ থেকে কমে ১৮ শতাংশ হয়েছে।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শরফরাজ গণি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে আমাদের শহরগুলোর প্রতিবেশব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।’

গবেষণায় প্রতিবেশব্যবস্থার ১৬ ধরনের সেবার আর্থিক মূল্য ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিশুদ্ধ বায়ু, বিনোদনের ব্যবস্থা, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, পানির ব্যবস্থা, মাটির সুরক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় রয়েছে। প্রতিবেশব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ায় এসব সেবার জন্য নগরবাসীকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

গবেষণায় প্রতিবেশব্যবস্থা ধ্বংসের আর্থিক ক্ষতি কমাতে পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলায় কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে, সে ব্যাপারেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন