পদ্মা সেতু দ্বিতলবিশিষ্ট। এর ওপর দিয়ে চলাচল করছে অন্যান্য যানবাহন। আর স্টিলের কাঠামোর ভেতর দিয়ে (নিচতলা) চলাচল করবে ট্রেন। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব সেতু বিভাগের। তারা শুধু রেলপথ বসানোর ব্যবস্থা করেছে। আর সেতু এবং এর দুই পাড়ে রেললাইন বসানো এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের। এ জন্য পদ্মা সেতু রেললিংক প্রকল্প চলমান আছে।

পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের সূত্র জানায়, সাইট বুঝে পাওয়ার পর কয়েক দিন দুই প্রকল্পের কর্মকর্তারা যৌথ পরিদর্শন চালাবেন। সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের ফলে কী পরিমাণ কম্পন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। কারণ, কম্পন বেশি হলে রেললাইনের পথ (অ্যালাইনমেন্ট) ঠিক রাখা কঠিন হবে। এরপর ৩০ জুলাইয়ের দিকে রেললাইন বসানো শুরু হতে পারে। প্রথমে কংক্রিটের স্লিপার বসানো হবে। এরপর টুকরো টুকরো রেলপাত বসিয়ে জোড়া দেওয়া হবে। এ কাজ শেষ করতে ছয় মাস লেগে যেতে পারে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, বর্তমানে যানবাহন চলাচলের সময় পদ্মা সেতুতে দশমিক ১৩ মাত্রার কম্পন হয়। ওই কম্পন নিচতলা বা রেললাইন বসানোর স্থান পর্যন্ত খুব একটা পৌঁছায় না। এ জন্য রেললাইন বসানোয় কোনো সমস্যাই হবে না। পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দিলে কম্পনের কারণে রেললাইন বসানো কঠিন হবে—এমন একটা শঙ্কা শুরু থেকেই ছিল রেল কর্তৃপক্ষের।

সেতু বিভাগ সূত্র আরও জানায়, সাইট বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষকে সেতুর বিশদ নকশা দেওয়া হবে। পাশাপাশি রেললাইন বসানোর সময় সেতুর রং যাতে না উঠে যায় এবং অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি না হয়, এই বিষয় আজকের বৈঠকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জুনে রেল চালুর লক্ষ্য

রেললিংক প্রকল্পের অধীনে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ঠিকাদার চীনের চায়না রেলওয়ে গ্রুপ। পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)। এটি চায়না রেলওয়ে গ্রুপেরই একটি প্রতিষ্ঠান।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে ফরিদপুরের ভাঙা এবং ভাঙা থেকে যশোর। শুরুতে মাওয়া থেকে ভাঙা অংশে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চালুর দিনই ট্রেন চলাচল শুরুর পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু সময়মতো কাজ এগোয়নি বলে এখন পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত অংশ আগামী জুনে চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে যশোর পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার কথা।

প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৬১ শতাংশ। আর ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত অংশের কাজ শেষ হয়েছে ৭০ শতাংশ। এই অংশের দূরত্ব প্রায় ৮২ কিলোমিটার। এ অংশে এখন পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রেললাইন বসানো হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই রেলপথ চালু হলে নতুন করে রেললাইনের আওতায় আসবে মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নড়াইল জেলা। ঢাকার পাশের কেরানীগঞ্জেও প্রথমবার রেল যাবে। ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব কমে যাবে ২১২ কিলোমিটার। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) বাড়তে পারে ১ শতাংশ হারে।

পদ্মা রেললিংক প্রকল্পের পরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে এ মাসের শেষের দিকে পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানো শুরু হবে। আগামী জুনে ঢাকা থেকে ভাঙা পর্যন্ত ট্রেন চালুর লক্ষ্য নিয়েই কাজ এগোচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় মালামাল প্রকল্প এলাকায় চলে এসেছে। আরও কিছু মালামাল আসছে। এখন আর কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন