এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ও আদালত দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি মাহবুব উদ্দিনের
সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের আদালত আগামী এক মাসের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই দাবি জানান।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘মামলার তদবিরে দুর্নীতি, লিস্ট আনতে দুর্নীতি, শুনানিতে দুর্নীতি। কিছু কিছু জুডিশিয়াল অফিসারের দুর্নীতি এবং সুপ্রিম কোর্টে—সব জায়গাতে। হাইকোর্টও লিস্টে আনতে দুর্নীতি, সুপ্রিম কোর্টে লিস্টে আনতে দুর্নীতি—এসব আইনজীবীদের বক্তব্য।’
সমিতির সভাপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল এবং হাইকোর্ট বিভাগের সব ক্ষেত্র দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানানো, তিনি দায়িত্ব বলে মনে করেন। তিনি বলেন, অন্য জায়গায় দুর্নীতি থাকতে পারে। দুর্নীতির বিচার কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে হয়। আর সুপ্রিম কোর্টে বিচারপ্রার্থীরা মামলা করার সময় যদি তদবির করতে হয়, সব জায়গায় টাকা দিতে হয়, এটা তো দুঃখজনক ব্যাপার।
এর আগেও বিষয়টি উল্লেখ করেছেন জানিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে এবং সারা বাংলাদেশের প্রতিটি কোর্ট আগামী এক মাসের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
যে জুডিশিয়াল অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি আরও বলেন, ‘এই সুপ্রিম কোর্টে গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সময় অনেক বিচারপতির আচরণ ছিল রাজনৈতিক। আজকে আড়াই বছর হয়ে গেছে প্রধান বিচারপতি আসছেন এর আগে একজন প্রধান বিচারপতি চলে গেছেন। তাঁরা এখনো সুপ্রিম কোর্টে বহাল তবিয়তে আছেন। তাঁদের অতীত আচরণ...আমি দাবি করি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তাঁদের প্রেরণ করা হোক।’
‘বস্তি থাকবে কেন’
মাহবুব উদ্দিন খোকন আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বস্তি উচ্ছেদ করার দাবি জানান। তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রিমিসেস থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য কর্মপরিবেশ সৃষ্টির জন্য আপাতত অস্থায়ী পর্যায়ে হলেও শেড করে দেওয়ার দাবি জানান।
আইনজীবীদের জন্য বিল্ডিং, কিউবিক্যাল, হলরুম করার দাবি জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন। এক মাসের মধ্যে এটি করা না হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।
আপিল বিভাগে তিনটি বেঞ্চ করতে হবে
এক সপ্তাহ পর সুপ্রিম কোর্ট অবকাশকালীন ছুটিতে যাবে উল্লেখ করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খোলার আগে আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় বিচারপতির নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে।