‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫’ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনে রূপান্তর করার দাবি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশটি পাস না হলে এর কার্যকারিতা হারাবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার। তিনি বলেন, টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী দেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় তামাকজনিত রোগে; দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জন। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় স্বীকৃত যে পরোক্ষ ধূমপানও সরাসরি ধূমপানের সমান ক্ষতিকর। তাই পরোক্ষ ধূমপান থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অরুনা সরকার আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল স্বাক্ষরকারী প্রথম দেশ এবং এর ধারাবাহিকতায় তৎকালীন সরকার ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এবারও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ (ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, ফুসফুসের ব্যাধি ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব আরোপ এবং তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ ও অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই অধ্যাদেশে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখার বিধান বিলুপ্ত, বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন ও সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার বন্ধ, সিগারেটের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধুলার স্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে। বক্তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ অকালমৃত্যু কমাবে, স্বাস্থ্যব্যয় হ্রাস করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় অধ্যাদেশটি যুগান্তকারী। তাই সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটিকে আইনে রূপান্তর করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, আইনটি পাস হলে অধূমপায়ীরা পরোক্ষ ধূমপান থেকে সুরক্ষা পাবেন, তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমবে। তিনি সতর্ক করেন, আইন পাস না হলে ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করতে হবে।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোগ্রাম অফিসার খাদিজাতুল কুবরার উপস্থাপনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওরের (ডরপ প্রোগ্রাম কো-অরডিনেটর জেবা আফরোজা, উবিনীগের প্রোজেক্ট কো-অরডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব, পিপিআরসির প্রতিনিধিসহ অন্যরা।
ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওর (ডরপ), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, নারী মৈত্রী, প্রগতি জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা), পিপিআরসি, উবিনীগ মিলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।