গত ২০ ডিসেম্বর ‘হাতকড়া-ডান্ডাবেড়ি নিয়েই মায়ের জানাজা পড়লেন বিএনপি নেতা’ শিরোনামে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপা হয়। ‘এবার শরীয়তপুরে হাতকড়া-ডান্ডাবেড়ি নিয়ে মায়ের জানাজায় ছাত্রদল নেতা’ শিরোনামে চলতি মাসের ১৭ তারিখে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

১০ আইনজীবীর মধ্যে রয়েছেন মো. আসাদ উদ্দিন। নোটিশদাতা এই আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই সময়ের মধ্যে একজন আইনজীবীসহ কয়েকজনকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে ঢাকার কোর্টে আনা হয়। এর কিছুদিন আগে আরেক আইনজীবীকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে কোর্টে আনা হয়। বেঙ্গল পুলিশ রেগুলেশনের প্রবিধান ৩৩০-এ হাতকড়াসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সেখানে শুধু পালিয়ে যাওয়া রোধে যতটুকু প্রয়োজন, তার বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ নিষেধ করা হয়েছে।’

মো. আসাদ উদ্দিন আরও বলেন, ‘যদি কোনো শক্তিশালী বন্দী সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত হন বা কুখ্যাত হিসেবে পূর্বপরিচিত হন বা অসুবিধা সৃষ্টিতে উন্মুখ থাকেন বা রাস্তা দীর্ঘ হয় বা বন্দীর সংখ্যা অনেক বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহার করা যেতে পারে। হাতকড়া না থাকলে দড়ি বা কাপড় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। প্রবিধানের কোথাও ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের কথা নেই। মূলত ডান্ডাবেড়ির ব্যবহার কেবল জেলকোড ও কারা আইনের আওতাধীন। বেঙ্গল পুলিশ রেগুলেশন অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কেবল হাতকড়া ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, ডান্ডাবেড়ি নয়।

ওই আইনজীবীর ভাষ্য, দেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনানুযায়ী ব্যতীত ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। অনুচ্ছেদ ৩৫ (৫) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাবে না বা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাবে না বা তাঁর সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। অথচ আইনের এসব বিধানের বাইরে গিয়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়ার অপব্যবহার হচ্ছে, যা নাগরিকদের জন্য অবমাননাকর ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এ কারণে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।