বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে প্রথমে বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনো ভ্যান ম্যানেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তির সময়টিতে সেভ দ্য চিলড্রেনও বাংলাদেশে পার করেছে তাদের কাজের ৫০ বছর। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রকাশিত বইটিতে লেখকদের তুলে ধরা ভাবনা শিশু অধিকারে সবাইকে সচেতন হতে সাহায্য করবে।’ অনো ভ্যানের কথার প্রমাণ পাওয়া গেল বইটি খুলেই।

১৪২ পৃষ্ঠার বইটি সাজানো হয়েছে পাঁচটি প্রসঙ্গে। সৃজনশীলতায় শিশু, পিছিয়ে পড়া শিশু, উন্নয়নে শিশু, বিকল্প ভাবনা এবং সম্ভাবনাময় শিশু। এই প্রসঙ্গগুলো নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন ১৫ জন বিশিষ্ট লেখক। তাঁদের মধ্যে আছেন অধিকারকর্মী, গবেষক, সাংবাদিক, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও শিশুতোষ চলচ্চিত্র সংগঠক। শিশু-কিশোরদের জন্য ‘ভাবীকালের বারতা’ লিখেছেন আবুল মোমেন। ‘অন্য শিশুদের কথা’ তুলে ধরেছেন গওহার নঈম ওয়ারা আর ‘৫০ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জন ও আগামীর ভাবনা’ নিয়ে লিখেছেন রাশেদা কে চৌধূরী। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সব লেখককে মঞ্চে ডেকে সম্মাননা জানানো হয়।

এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিশুদের নিয়ে সংগঠন তৈরির প্রসঙ্গ এলে আশঙ্কা হয় ‘এলিট’ বা ‘পার্টি’—এই দুই ভাগে না ভাগ হয়ে যায়! এমন হলে সব শিশু সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে প্রথম গবেষণাকাজ হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আগামীও শিশু সংবেদনশীলতা নিয়েই এগিয়ে যাবে।’

default-image

বর্তমানে শিশুদের অধিকার রক্ষার অভিজ্ঞতার কথা সবাইকে শোনাতে শিশু প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিল রাজধানীর দুই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার আর সৈকত হাসান। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে কীভাবে বাল্যবিবাহ ঠেকিয়েছে এবং শিশুশ্রম বন্ধের চেষ্টা করেছে, সে অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়। দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে শিশুদের সমস্যা একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি।

আলোচনার শুরুতেই শিশুদের অধিকারের ওপর জোর দিয়েছেন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কর্মকর্তা রিফাত বিন সাত্তার। উন্নয়নের কথার পাশাপাশি শিশু নির্যাতনের প্রসঙ্গও সমান গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতে প্রকাশিত আজকের এ বইটি ৫০ বছর পরেও থাকবে বলে আশা করেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। তিনি বলেন, তখন আজকের দিনে শিশুদের অবস্থা কেমন ছিল, সে ইতিহাস পাওয়া যাবে। সাহিত্যই সম্পদ হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বইটির সাহিত্য মানের সঙ্গে প্রামাণ্য মূল্য আছে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানের শেষ দিকে উঠে আসে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কথা। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, বাল্যবিবাহ কমানো সম্ভব হয়নি এখনো। শিশুশ্রম এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় শিশুমৃত্যুর বিষয়গুলোতে সচেতন না হলে পরিপূর্ণভাবে দেশের অগ্রগতির সাফল্য অনুভব করা যায় না। এই বইতে যেমন অর্জনের কথা আছে, পাশাপাশি উঠে এসেছে ব্যর্থতার চিত্রও। তাই বাংলাদেশের ৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় শিশুদের সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্য পাওয়া যায় ‘৫০ পেরিয়ে শিশুদের বাংলাদেশ’ বইটিতে।

বইটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, রাশেদা কে চৌধূরী, রিফাত বিন সাত্তার এবং আনিসুল হক। বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপারসন সজীব সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কিশোর আলোর সম্পাদক ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক। সবশেষে অতিথি ও লেখকদের ধন্যবাদ জানান সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক শিমতানা শামীম।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন