সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, মানুষের আবেগের জায়গায় আঘাত করে, ধর্মীয় উসকানি ছড়িয়ে, বিভ্রান্ত করে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এ কারণে ফেসবুকে কিছু দেখেই লাফ দিয়ে উঠবেন না। আগে জানার চেষ্টা করুন কী হয়েছে।

default-image

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, আপনাদের প্রশ্ন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার বিচার হয় না কেন? যাঁরা আইন পেশায় আছেন, তাঁরা জানেন, দেশে প্রায় ৩৫ লাখ মামলার বিচার ঝুলে আছে। প্রধান বিচারপতি রাত-দিন চেষ্টা করছেন সেগুলো সুরাহা করার জন্য। অনেক মামলা বিচার বিভাগে ঝুলে আছে। এ ধরনের সব ঘটনারই সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। রংপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সহিংসতার সবগুলোর তদন্তই শেষ হয়েছে। এখানে নিরাপত্তা বাহিনীর চেষ্টার কোনো কমতি নেই।

default-image

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ যেকোনো উগ্রবাদী ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, উগ্রবাদীরা দেশকে ভালোবাসেন না। সেটা যেকোনো ধর্মেরই হতে পারে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ত্বরিত বিচার সম্পন্ন করে সাজার আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

default-image

সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকাতে পাকিস্তান আমলে বন্ধুদের নিয়ে মন্দির পাহারা দেওয়ার কথা জানিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হলো, তখন ভাবলাম, এখন আর পাহারা দিতে হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় আরও বেশি করে পাহারা দিতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সবাইকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দিতে হবে।

default-image

সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, অনেকে বলতে চান সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সবই পরিকল্পিত। এর পেছনে কারা আছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

রামু থেকে শুরু করে সর্বশেষ নড়াইলের ঘটনা-কোনোটির জন্যই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ দায়ী নয় বলে উল্লেখ করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ। তিনি বলেন, ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনাগুলো ঘটছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর ও মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় প্রধানমন্ত্রীকেই বের করতে হবে।

ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র কুমার নাথ বলেন, বৈষম্যহীন দেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। গত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা আইন করা হবে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন ছাড়া সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিদ্ধেশ্বরী সর্বজনীন পূজা পরিষদের বিদায়ী কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব ও স্বাগত বক্তব্য দেন একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল বাসার, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার আজিমুল হক এবং রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন।

অনুষ্ঠানে ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পর তাদের ভাঙা ঘর, ভাঙা দোকান মেরামত করে দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। দোকানের ভাঙন হয়তো জোড়া লাগছে, কিন্তু তাদের মনের ভাঙনের কী হবে? এ পর্যন্ত একটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার হয়নি। এসব ঘটনার বিচার যেন নিশ্চিত করা হয়। এই বাংলাদেশ যেন সবার হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন