অধ্যাপক আবুল বারকাতের দুই ফ্ল্যাট জব্দ, গাড়ি-ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে সাড়া দিয়ে অধ্যাপক আবুল বারকাতের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ২৯ লাখ টাকা মূল্যের তাঁর একটি প্রাইভেট কার এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির আজ বুধবার এ আদেশ দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পদ জব্দের আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ অধ্যাপক আবুল বারকাতের সম্পদ জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি লেখেন, ‘ড. আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ প্রদানপূর্বক জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধানকালে ড. আবুল বারকাতের নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। আবুল বারকাত তাঁর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ নিষ্পত্তির পূর্বে অর্জিত এসব অবৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর/বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের ক্ষতির কারণ হবে। তার এসব সম্পত্তি অবিলম্বে জব্দ ও অবরুদ্ধ করা আবশ্যক।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল বারকাত একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল বারকাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে এননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক আবুল বারকাতসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।

গত বছরের ১০ জুলাই ধানমন্ডি এলাকা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুদকের মামলায় জামিন পেলে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় জামিন পেয়ে জুনের শেষ দিকে তিনি কারামুক্ত হন।