র্যাম্পে ‘মেসি-ডন’, দর্শকদের উল্লাস
র্যাম্প প্রস্তুত। চারপাশ ঘিরে আছে দর্শকেরা। ঘোষণা এল, আসছে মেসি। ঘোষণার পরপরই হাজির সে। গলায় মালা। মাথায় কাপড়, পালক আর আয়নার তৈরি মুকুট। মুখের শোভা বর্ধনের জন্য লাগানো মুহুরি। চঞ্চল স্বভাবের মেসিকে দেখে উল্লাসে ফেটে পড়ে দর্শকেরা।
না, এই মেসি বিশ্বখ্যাত ফুটবলার মেসি নন। আর চিরচেনা সেই র্যাম্পের আয়োজনও নয় এটি। বিভিন্ন প্রজাতির গরুর প্রদর্শনীর জন্য এই র্যাম্প প্রস্তুত করা হয়। শুক্রবার চট্টগ্রাম ক্যাটল এক্সপোর র্যাম্পে হেঁটে বেড়িয়েছে ৩৮টি গরু।
চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ির আউটার স্টেডিয়াম মাঠে ৩৮ জন খামারি বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে এ আয়োজনে অংশ নেন। এটি ছিল এই প্রদর্শনীর দ্বিতীয় আয়োজন। এবারও প্রতিটি গরুর বৈচিত্র্যময় নাম। বেলা ৩টায় শুরু হয় শো। সবচেয়ে বড় গরুগুলো নিয়ে র্যাম্পে হাঁটেন খামারিরা। একে একে র্যাম্পে আসে শোবিজ, ডন, বাদশা, এমবাপ্পে, সিআরসেভেনসহ নানা পরিচিত নামের গরু। তাদের হম্বিতম্বি দেখে দর্শকেরা স্লোগান দিতে থাকে। মেতে ওঠে উচ্ছ্বাসে।
মেসির পর নজর কেড়েছে শোবিজ ও টাইটানিক। কুচকুচে কালো রঙের বেশ মোটাতাজা শরীর টাইটানিকের। মাথার ওপর সাদা ছোপ ছোপ দাগ। শিং জোড়া খাঁড়া। হাবভাবে রাজকীয়, হম্বিতম্বিও আছে বেশ। অপরিচিত কেউ কাছে ঘেঁষলেই ফোঁস ফোঁস আওয়াজ ছাড়ছিল সে। তাকে মঞ্চে নিয়ে আসার পর যেন আটকে রাখা যাচ্ছিল না। দড়ি ছিঁড়ে চলে যেতে চাইছিল। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর বড়পাড়া থেকে টাইটানিককে এ প্রদর্শনীতে আনা হয় সাঙ্গু ফার্ম ও হ্যাচারির পক্ষে।
টাইটানিকের মতো শোবিজও দর্শকদের বিমোহিত করে। শোবিজের শিং জোড়া বাঁকানো। লালচে রঙা মোটাতাজা শরীর। নেপালি গির জাতের এই গরু স্বভাবে শান্ত।
দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রামে ক্যাটেল এক্সপো নামের এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ‘চট্টগ্রাম ক্যাটেল ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন’। চট্টগ্রাম জেলার আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারিরা গরু নিয়ে আসেন। র্যাম্পের পাশাপাশি ৩৮টি স্টলে খামারিরা দুটি করে গরু প্রদর্শনীর জন্য রাখেন। গত বছর প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনী হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি।