বিএনপির প্রার্থী সারোয়ারের রিটের আদেশ বৃহস্পতিবার, মঞ্জুরুল আহসানের রিটের শুনানি বুধবার

প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের করা রিটের ওপর আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।

সারোয়ার আলমগীরের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার আদেশের এই দিন ধার্য করেন। এদিকে প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার দিন রেখেছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়। ইসির ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গতকাল সোমবার রিটটি করেন, যা আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৩৮ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

হাইকোর্ট রিট শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার দুপুর ১২টায় সময় নির্ধারণ করেছেন বলে জানান মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইসির ১৭ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না—এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। ইসির ১৭ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত স্থগিতের পাশাপাশি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

সারোয়ার আলমগীরের রিটের আদেশ বৃহস্পতিবার

মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির ১৮ জানুয়ারি দেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের করা রিটের ওপর আজ মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগে ইসিতে আপিল দায়ের করা হয়েছিল। জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন অভিযোগটি করেছিলেন। শুনানি নিয়ে ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে। তাঁর প্রার্থিতা বাতিল হয়। এর বৈধতা নিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সারোয়ার আলমগীর গতকাল সোমবার হাইকোর্টে রিটটি করেন। রিটটি আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৪৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও মো. রুহুল কুদ্দুস শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নিজাম উদ্দিন। অপর প্রার্থী নুরুল আমীনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানিতে ছিলেন।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। সারোয়ার আলমগীরের খেলাপি ঋণ নেই। ব্যাংকের চাহিদামতে তিনি ইতিমধ্যে প্রিমিয়ার লিজিংকে তিন কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, আপিল মঞ্জুর করে সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির ১৮ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ইসির ১৮ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত স্থগিতের পাশাপাশি সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নিতে অনুমতি দেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে রিটে।