সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন কেন নয়
দিনের ভোট রাতে করাসহ প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের জামিন প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জামিন চেয়ে হাবিবুল আউয়ালের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রুল দেন। মামলায় আবেদনকারীকে (হাবিবুল আউয়াল) কেন জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর আগে এই মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে জামিন চেয়ে গত মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন হাবিবুল আউয়াল। তাঁর পক্ষে হাইকোর্টে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক, এস এম শাহজাহান ও সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম সৌরভ। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ছফওয়ান শুনানিতে ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী মো. তায়্যিব-উল-ইসলাম। প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে সাবেক ৩ সিইসিসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ২২ জুন মামলাটি করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খান।
মামলায় ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কে এম নূরুল হুদা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় হাবিবুল আউয়ালকে ২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
এই মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধের ধারা যুক্ত করার বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ আবেদন করলে গত বছরের ২৫ জুন তা মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, জাবেদ পাটোয়ারী, এ কে এম শহীদুল হক প্রমুখ।