হেনস্তা ও ঠাট্টাবিদ্রূপের জবাবে নারী চালকেরা বললেন, তাঁরা দমবেন না

বাসের স্টিয়ারিং হাতে চালক মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। গত মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ডিপোতে ‘পিংক বাস’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানেছবি: প্রথম আলো

খাদিজা আক্তার (২৮) ছিলেন গৃহিণী। ২০২১ সালে তিনি গাড়ি চালানোর ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরে প্রশিক্ষক হন। নারীদের জন্য শুরু হওয়া বাসের চালক তিনি। দুই দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী চালকদের নিয়ে যে ট্রল (ঠাট্টাবিদ্রূপ) ও আজেবাজে মন্তব্য করা হচ্ছে, সেগুলোর অন্যতম শিকার তিনি। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে এই প্রতিবেদককে নিজেই মুঠোফোন খুলে দেখালেন তাঁর ছবি দিয়ে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করা হচ্ছে।

নতুন বাস সেবা উদ্বোধনের তৃতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার বাসগুলো কেমন চলছে ও চালকদের প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে দেখা গেল, চালকেরা প্রথম দিনের মতো কথা বলতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। বেশির ভাগই কথা বলতে চাননি। যাঁরা কথা বলেছেন, তাঁরা তাঁদের হেনস্তা করা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে এটাও বলেছেন, এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে, এমন আশঙ্কা ছিল তাঁদের। তবে যতই ট্রল করা হোক, তাঁরা দমবেন না। আজ রাজধানীর মতিঝিল বিআরটিসির বাস ডিপোতে গিয়ে কথা হয় নারী চালকদের সঙ্গে।

গত মঙ্গলবার ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে নারী চালক ও কনডাক্টর পরিচালিত নারীদের জন্য ১৩ রুটে ১৪টি বাস চালু করেছে বিআরটিসি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১০টি রুটে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস চলছে। গোলাপি রঙের বাসগুলোকে ‘পিংক বাস’ বলা হচ্ছে। এর আগেও নারীদের জন্য বাস সার্ভিস থাকলেও অপ্রতুল সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে সফল হয়নি। তবে এবারই প্রথম সম্পূর্ণ নারীদের পরিচালনায় নারীদের জন্য বাস সেবা চালু করা হয়েছে। এ বাসের পক্ষে–বিপক্ষে রয়েছে নানা মত। নারী বাসযাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করলেও এক পক্ষের মতে, নারীদের জন্য আলাদা বাস সেবা না দিয়ে পুরো গণপরিবহনব্যবস্থা নারীদের নিরাপদে চলার উপযোগী করা উচিত ছিল। কারণ, সংখ্যায় কম থাকায় এ বাস সেবার পরিণতিও আগের মতো হতে পারে। কারণ, এই বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে নারী যাত্রীদের। তাতে অনেকে আগ্রহ হারাতে পারেন। আরেক পক্ষ প্রচণ্ড নারীবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, নারীরা বাস চালানোর উপযুক্তই নন। তাঁরা ট্রল করছেন। আর ভিউয়ের প্রতিযোগিতায় নেমে কিছু সংবাদমাধ্যমও নেতিবাচক প্রতিবেদন করছে।

‘পিংক বাস’–এর চালক খাদিজা আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার মতিঝিলে বিআরটিসির ডিপোতে নারী চালকদের বিশ্রামাগারে
ছবি: প্রথম আলো

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নারী বাস নিয়ে কর্মকর্তারা যেন কোনো মন্তব্য না করেন। সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রচারেও মন্ত্রণালয় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখন মাত্র ১৫ জন চালক ও ২৪ জন নারী কনডাক্টর রয়েছেন। বাসে আপাতত পুরুষ প্রশিক্ষক রাখা হচ্ছে নারীদের চালনা তদারকির জন্য। ফলে ৩২ আসনের নতুন ১০০ ইলেকট্রিক বাস সংযোজন ও চালকের সংখ্যা না বাড়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রচার কম হোক চাইছেন তাঁরা। মতিঝিল ডিপোতে গিয়ে সেই আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। নারী চালকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পেতে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়। সকাল আটটায় যাঁর যাঁর নির্ধারিত রুটে গাড়ি চালিয়ে তাঁরা ডিপোতে এসে নারী চালকদের অপেক্ষাগারে বিশ্রাম করছিলেন। এখন পর্যন্ত তাঁরা সকাল আটটায় ও বিকেল চারটায় ট্রিপ দিচ্ছেন। বাকি সময় বাসগুলো ডিপোতে থাকছেন।

আরও পড়ুন

‘যাঁরা বিদ্রূপ করছেন, তাঁরা আমাদের দমাতে পারবেন না’

চালক খাদিজা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গৃহিণী থাকার সময় অলস বসে না থেকে পাঁচ বছর আগে বিআরটিসিতে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন ও পরে প্রশিক্ষক হন। পিংক বাসের চালক নিযুক্ত হওয়ার আগে গাজীপুরে তাঁদের বাস চালানোর জন্য ১ মাস ১৪ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই গাড়ি চালাতে পারি, তাই বাস চালানো শেখা ও বাসের নিয়ন্ত্রণ নিতে বেশি সময় লাগেনি।’ তাঁর মতে, পিংক বাসের চালক হিসেবে গর্ববোধ করছেন। একজন নারী হয়ে একজন নারীকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসার দায়িত্ব তাঁকে আনন্দ দিচ্ছে, শক্তিও দিচ্ছে।

‘কিছু কিছু ভিডিও দেখেছি। কিছু কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে না নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রূপ করছেন। আমি তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা দিয়ে দমাতে পারবেন না আপনারা। আমরা নারীরা দেশের যত ধরনের খাত রয়েছে, সব জায়গায় সফলভাবে কাজ করে যাব।’
খাদিজা আক্তার, পিংক বাসের চালক

খাদিজা জানান, চালক হওয়ার আগে পরিবার থেকে সহায়তা পেয়েছেন। বাবার বাড়ি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন সাহস জুগিয়েছেন। চাকরিজীবী স্বামী সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন। নারী যাত্রীরা বাসে উঠে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন দেখে ভালো লেগেছে। যাত্রীদের কেউ বলেছেন, ‘আপু, আপনি আমাদের গর্ব। খুব সাবধানে চালাবেন। আপনারাই আমাদের নারীদের বিশ্বের কাছে তুলে ধরবেন। নারীরা শুধু ঘরের ভেতরে বদ্ধ অবস্থায় নয়, পরিবহন খাতে সমানভাবে তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন।’

তবে এসব উৎসাহব্যঞ্জক কথার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও কিছু সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচার তাঁকে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ভিডিও দেখেছি। কিছু কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে না নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রূপ করছেন। আমি তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমাদের কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা দিয়ে দমাতে পারবেন না আপনারা। আমরা নারীরা দেশের যত ধরনের খাত রয়েছে, সব জায়গায় সফলভাবে কাজ করে যাব।’

‘পিংক বাসে’ নারী যাত্রীদের গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছেন নারী চালকেরা
ছবি: বিপাশা রায়

অনেক মন্তব্য দেখে মন খারাপ হলেও উপেক্ষা করেছেন বলে জানান খাদিজা আক্তার। তিনি বলেন, ‘পেছনে লোকে অনেক কিছু বলে। এখন আমরা যদি সেসব কথা ধরে মন খারাপ করে বসে থাকি, তাহলে আমাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তিনি নারী চালকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নেতিবাচক মন্তব্য করে অনেক ছেলেমেয়ে যাত্রীদের ঘাবড়ে দিচ্ছে। আমি একজন নারী হিসেবে বলছি, নারীরা, আপনারা আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন। নেতিবাচক কোনো মন্তব্যে কান দেবেন না। আপনাদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা ঘুচিয়ে দেব।’

‘মানুষের কথা কানে নিলে জীবনে উন্নতি করা যাবে না’

ছয় বছর আগে বিআরটিসিতে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন মোসাম্মৎ সাথী খাতুন (৩০)। তখন ডিগ্রি পাস ছিলেন। দুই বছর ধরে বিআরটিসির প্রশিক্ষক হিসেবে মানিকগঞ্জে কাজ করেন। এর মধ্যেই এমএ পাস করেন। এখন এলএলবি করছেন। তিনি সাভার ইপিজেড এলাকায় স্বামী ও একমাত্র সন্তানসহ বাস করেন। পিংক বাসে তাঁর রুট মিরপুর ১০ থেকে মতিঝিল। বাসা থেকে সকাল ছয়টায় রওনা দিয়ে আটটার ভেতর কর্মস্থলে এসেছেন।

মোসাম্মৎ সাথী খাতুন। আজ বৃহস্পতিবার মতিঝিলে বিআরটিসির ডিপোতে নারী চালকদের বিশ্রামাগারে
ছবি: প্রথম আলো

সাথী বলেন, ‘নারী যাত্রীদের সেবা দিতে পেরে ভালো লাগছে। তাঁরা নেমে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ দেন। অন্য বাসের চালকেরাও উৎসাহ দেন। কিছু আজেবাজে লোক নানা কথা বলবেই। সেসব কথায় কিছু মনে করছি না।’

অনেক দূর এগিয়ে যেতে চান উল্লেখ করে মোসাম্মৎ সাথী খাতুন বলেন, ‘ওই সব লোকের ধারণা পাল্টে দিতে হবে। ছেলে চালকেরাও মাঝেমধ্যে রাস্তায় সমস্যায় পড়ে, তাহলে আমাদের মেয়ে নিয়ে কেন আজেবাজে কথা বলে? এসব কথা মাথায় নিচ্ছি না। আমরা আরও ভালো কিছু করে দেখাব।’

বিআরটিসির কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নারী বাস নিয়ে কর্মকর্তারা যেন কোনো মন্তব্য না করেন। সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রচারেও মন্ত্রণালয় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এখন মাত্র ১৫ জন চালক ও ২৪ জন নারী কনডাক্টর রয়েছেন। বাসে আপাতত পুরুষ প্রশিক্ষক রাখা হচ্ছে নারীদের চালনা তদারকির জন্য। ফলে ৩২ আসনের নতুন ১০০ ইলেকট্রিক বাস সংযোজন ও চালকের সংখ্যা না বাড়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রচার কম হোক চাইছেন তাঁরা।

সাথী জানান, তাঁর ভাবি তাসলিমা পারভীন বগুড়ায় পিংক বাসের চালক নিযুক্ত হয়েছেন। ভাইও ট্রাকচালক। স্বামীও ট্রাকচালক। গাড়ি চালানোকে পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য তাঁকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন ভাই। আর সাহস জুগিয়েছেন বাবা। তিনি বলেন, ‘বাবা বলতেন, মেয়েরা বিমান চালায়, ট্রেন চালায়—তুমি কেন পারবে না। যেকোনো কঠিন কাজেই আমি ভয় পেলে বাবা সাহস দেন। যখন বিআরটিসির প্রশিক্ষণ নিই, তখন বাড়ির আশপাশের অনেকে আমাকে ও ভাবিকে অনেক আজেবাজে কথা বলেছে। সেসব কথা কানে নিইনি। মানুষের কথা কানে নিলে তো জীবনে উন্নতি করা যাবে না।’

নারীদের নিয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনার আহ্বান জানিয়ে সাথী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা ভালো করব। অনেক বেকার নারীরা আছেন, তাঁরা আমাদের দেখে উৎসাহ পাবেন। এতে নারীর কর্মসংস্থান বাড়বে।’

‘নেতিবাচক মন্তব্য হবে, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছি’

‘নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হবে, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই এ পেশায় এসেছি। ভালো কিছু করলেও ট্রল করবে, খারাপ কিছু করলে তো ট্রল করবেই।’ কথাগুলো বলেছেন আরেক চালক মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। তিতুমীর কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। নতুন এই বাস সেবা উদ্বোধনের দিনে খুব আগ্রহ নিয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিলেও আজ ম্রিয়মাণ ছিলেন। অনেক অনুরোধেও ভিডিওর সামনে আসতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে কথা বলতে থাকি, সেগুলো লিখে দিয়েন, ভিডিও করার দরকার নেই।’

ট্রলের কারণে তিনি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে চাইছেন না কি না, তা জানতে চাইলে রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘অনেকে যেকোনো কাজ করলেই ট্রল করে। ভালো কাজ করলে কত দিন টিকে থাকতে পারবেন, সেটা নিয়ে প্রথমেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারবে—প্রথমেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন আপনি। আর কাজ খারাপ করলে তো সঙ্গে সঙ্গেই ট্রল হবে। এই চ্যালেঞ্জ একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা লাগবে। সড়কে চলার সময় সবাই যদি নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে চালকদের এত চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে না। ট্রাফিক নিয়ম চালক, পথচারী সবাইকে জানতে হবে, মানতে হবে।’

নারী যাত্রীদের সেবা দিতে পেরে ভালো লাগছে। তাঁরা নেমে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ দেন। অন্য বাসের চালকেরাও উৎসাহ দেন। কিছু আজেবাজে লোক নানা কথা বলবেই। সেসব কথায় কিছু মনে করছি না।
মোসাম্মৎ সাথী খাতুন, পিংক বাসের চালক

রাবেয়া জানান, ২০১২ সালে ব্র্যাকের একটি প্রকল্প থেকে বিনা মূল্যে গাড়ি চালানো শেখেন। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্র্যাকে চাকরি করেন। এরপর বিআরটিসিতে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালে তিনি ভারী যানবাহন চালানোর লাইসেন্স পান। স্বামী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন। তিনি বলেন, গাড়ি চালানোকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সময়ই পরিবার থেকে বাধার মুখে পড়েছিলেন।

‘চালক’ শব্দটাকেই অনেকে নেতিবাচকভাবে নেন উল্লেখ করে রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘কে কী বলেছে শোনার বিষয় না। বিশ্বাস আছে, এগিয়ে যাব। অনেক বেকার শিক্ষিত মেয়ে আছেন, তাঁরা আমাদের দেখে উৎসাহিত হবেন। বিআরটিসি ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয়। পরিবহন সেক্টরে মেয়েদের জন্য কাজের অনেক সুযোগ রয়েছে।’

চালক মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। গত মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ডিপোতে ‘পিংক বাস’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে
ছবি: প্রথম আলো

রাবেয়া খাতুনের মতে, পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা অনেক বৈষম্যের শিকার হয়। আয় করলে মেয়েদের ক্ষমতায়ন হয়। অনেক মেয়ে চাকরি করে পুরো পরিবারকে দেখাশোনা করেন। নিম্নবিত্ত অনেক পরিবারে স্বামীর একার উপার্জনে সংসার চলে না। মেয়েরা কাজে এগিয়ে এলে স্বামীদের সহায়তা করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের জেরে আরও দুজন চালক আজ কথা বলতে চাননি। উদ্বোধনী দিনে তাঁরা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তাঁরা বলেন, কথা বললেই আবার হেনস্তার শিকার হতে হবে। এর চেয়ে কথা না বলে নিজের মতো করে কাজ করে যেতে চান। হতাশা প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, তাঁদেরও পরিবার রয়েছে, স্বজন রয়েছে। এ ধরনের ট্রল তাঁদের সামাজিকভাবে যে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সে চিন্তাও নেতিবাচক মন্তব্যকারীরা ভাবছেন না। তাঁরা বলেন, কাজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে চান।