আইনজীবীদের আপত্তি, অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন ‘এটা সাময়িক’

সুপ্রিম কোর্টফাইল ছবি

বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে আজ বুধবার ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইনজীবীদের একাংশ।

এদিকে ভার্চ্যুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরুর পর নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ব্যবস্থাটা সম্পূর্ণ সাময়িক। এটা দীর্ঘমেয়াদি কোনো ব্যবস্থা হিসেবে উনি (প্রধান বিচারপতি) গ্রহণ করেননি। এটা একটা সাময়িক ব্যবস্থা। সাময়িক এই ব্যবস্থা উনি যত দিন প্রয়োজন মনে করবেন। তারপরে আমার বিশ্বাস, উনি রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার যে রেওয়াজ এবং রীতি সেদিকে ফিরে যাবেন বলে আশা করি।’

এর আগে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে এবং সপ্তাহের অন্যান্য কার্যদিবসে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত পরিচালিত হবে বলে ২০ এপ্রিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে আজ ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

কত মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হলো

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ, চেম্বার আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগের ৬৩টি বেঞ্চে বুধবার ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলেছে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে আপিল বিভাগে (চেম্বার আদালতসহ) ৯৫টি মামলার শুনানি এবং ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলার শুনানি এবং ১৫৬টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। উভয় বিভাগে সর্বমোট ৭০৭টি মামলার শুনানি এবং ১৭৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

সপ্তাহে দুই দিন ভার্চ্যুয়ালি সুপ্রিম কোর্টে শুনানি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীদের একাংশ। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন তারা
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি আইনজীবীদের

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আইনজীবীদের একাংশ। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল, ব্রিফিং ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে তারা। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সমিতি ভবনের সামনে তারা কালো পতাকাসহ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসেই আইনজীবীদের শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়ে গতকাল মানববন্ধন করেন একদল আইনজীবী। ব্যানারে লেখা ছিল ‘আয়োজনে: সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্যবৃন্দ’।

মানববন্ধনের ধারাবাহিকতায় আগের ঘোষণা অনুসারে আজ বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন আইনজীবীরা। কর্মসূচি চলাকালে ব্রিফিংও করেন তাঁরা। ব্রিফ্রিং ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, আনিসুর রহমান রায়হান প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় আইনজীবী মোকছেদুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা (তাজ), মো. আশরাফুল ইসলাম, মাকসুদ উল্লাহ, আশরাফ রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘ক্যামেরা ট্রায়ালের মতো আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা আদালতে প্রবেশ করতে পারেন না। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। স্বাধীন বিচার বিভাগে মিডিয়ার অ্যাকসেস অপরিহার্য।…সংসদ চলছে, সংসদ সবচেয়ে ব্যয়বহুল।...সরকারপক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, কোনো জ্বলানিসংকট নেই।…প্রত্যাশা করি বাস্তবতার আলোকে বুধবারের মধ্যে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) কালো পতাকাসহ লাগাতার আন্দোলন ঘোষণা করা হলো।’

ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

‘কোনো সমস্যা বোধ করিনি’

ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার একটাই বক্তব্য, আদালত পরিচালনাটা সম্পূর্ণভাবে প্রধান বিচারপতি ব্যবস্থাপনা সুনির্দিষ্ট করে থাকেন। আদালতের পদ্ধতি, বিচারকদের দায়িত্ব বণ্টন থেকে শুরু করে সবকিছু তাঁর ওপর নির্ভর করে। উনি মনে করেছেন সপ্তাহে দুই দিন ভার্চ্যুয়াল কোর্ট করলে সুবিধা হবে, সেই বিবেচনায় করেছেন।’

প্রধান বিচারপতি ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সম্ভবত ৭ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে ডেকেছিলেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) বলেছিলেন, সপ্তাহে দুদিন ভার্চ্যুয়াল কোর্ট পরিচালনা করতে চান। অত্যন্ত পজিটিভ চিন্তা থেকে বলেছিলেন—কমপক্ষে দুইটা দিন করা হলে হয়তো জ্বালানির ওপর চাপ কমবে।’

আপিল বিভাগের ভার্চ্যুয়াল কোর্টে মামলার কার্যক্রম গত দিনের তুলনায় গতিশীল বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘এ কথাও সত্যি, যাঁরা মনে করেন এ পর্যায়ে শারীরিক উপস্থিতিতে আদালত হওয়া বাঞ্ছনীয়, তাঁদেরও যৌক্তিকতা আছে, প্র্যাকটিক্যাল ডিফিকাল্টি আছে—এটিও মানতে হবে। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে আদালত পরিচালনায় আমি এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা বোধ করিনি।’