সমাবেশে সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের স্ত্রী-সন্তানদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন শাখার কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁরা ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’ স্লোগান দেন।

সমাবেশে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম নগর ইউনিটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমেদ, কাজী নুরুল আবছার ও নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে বিএনপির গণসমাবেশে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাঁর বাবাকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে স্লোগান দেন। রাজাকারের সন্তান হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। আমরা মনে করি, এটা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক। তাঁর বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হবে।’ তাঁরা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর আমরা পার করছি। কিন্তু এখনো এ দেশে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। বিএনপি রাজাকারদের লালনপালন করছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের চট্টগ্রাম নগর শাখার আহ্বায়ক সাহেদ মুরাদ। উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, ছৈয়দুল হক চৌধুরী, নুর উদ্দিন প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের নগর শাখার নেতা ওমর ফারুক ও কামরুল হুদা।

হুম্মামকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদে তাঁকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন প্রধান অতিথি মোজাফফর আহমেদ। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী ও তাঁদের সন্তানদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান বক্তারা।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের নেতারা বলেন, এই রাষ্ট্রে রাজাকার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। পাশাপাশি তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এখন সময়ের দাবি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসব দাবি জানানো দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। আরও অনেক আগেই যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দরকার ছিল বলে তাঁরা মত দেন। এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদে আইন পাস করার দাবি তোলেন।

হুম্মাম কাদেরকে তাঁর বক্তব্যের জন্য অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হুম্মাম কাদের সংবিধানবহির্ভূত ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি প্রতিবাদ করেনি। এই ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা মেনে নেবেন না। বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখবেন, রাজাকারদের সমূলে উৎপাটন করবেন।’

৫ দফা দাবি

সমাবেশে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এসব দাবি হলো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর স্ত্রী-সন্তানদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা এবং ভোটাধিকার তুলে নেওয়া; যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা; গুডস হিলসহ রাজাকারদের সব বাড়ি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তর করা; দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও থানায় রাজাকারদের তালিকা তৈরি করা ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং এক মাসের মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা। এসব দাবি মেনে না নিলে প্রয়োজনে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।