একা চলতে পারেন না, কারাগারে ‘ডিভিশন’ চাইলেন শাহরিয়ার কবির
মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে কারাগারে ‘ডিভিশন’ (বিশেষ মর্যাদা) দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ রোববার এই আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী পি এম মেহেদী হাসান। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় শাহরিয়ার কবিরকে আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। দেখা যায়, শাহরিয়ার কবিরের কোমরে বেল্ট। হাতে লাঠি। বিচারকাজ শেষে বের হওয়ার সময় অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে ‘ডক’ (কাঠগড়া) থেকে বের হচ্ছেন শাহরিয়ার কবির।
তাঁর আইনজীবী মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন শাহরিয়ার কবির। বিচিত্রার সম্পাদক ছিলেন দুই দশক। ১০০টির বেশি বই রয়েছে তাঁর। ১ বছর ৭ মাস ধরে তিনি কারাগারে আছেন। সামাজিক ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁর ডিভিশন চাওয়া হয়েছে। এর আওতায় তিনি যেন অন্যান্য সুযোগ–সুবিধাসহ একজন সেবক পান, যিনি কারাগারে খেতে, বাথরুমে যেতে, হাঁটতে তাঁকে সহযোগিতা করবেন। তবে ট্রাইব্যুনাল এখনো এ বিষয়ে আদেশ দেননি।
সাবেক ডিআইজি জলিল মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
হেফাজতের সমাবেশে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের এই মামলায় আরও গ্রেপ্তার আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মন্ডল ও সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এর মধ্যে সাবেক ডিআইজি জলিল মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ এই মামলার অনেক আসামি পলাতক। এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।